সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছেন, যেন সমাজে পিছিয়ে পড়া অবহেলিত শিশু-কিশোররাও দেশের মূল স্রোতোধারার সাথে মিশে যেতে পারে। এজন্য দেশের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত প্রকৃত সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে আগামী ৫০ বছরের জন্য একটি দূরদর্শী মহাপরিকল্পনা (মাস্টার প্ল্যান) তৈরি করার কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রস্তাবিত ১০তলা বিশিষ্ট ‘শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র (বালক)-এর অ্যাকাডেমিক কাম ডরমেটরি ভবন’-এর নির্মাণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এই শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের অপরাধী হিসেবে নয়, বরং সংশোধনের জন্য আনা হয়। তারা যেন চমৎকার ও উপযুক্ত পরিবেশের মধ্য থেকে নিজেদের ভুলত্রুটি সংশোধন করার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে সমাজের সুস্থ ও স্বাভাবিক নাগরিক হিসেবে ফিরে আসতে পারে, সেজন্য কেন্দ্রের সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

বর্তমানে কেন্দ্রটিতে প্রায় ৭৬০ জন শিশু ও কিশোর অবস্থান করছে, যাদেরকে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র পরিসরে কৃষি কাজও শেখানো হচ্ছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে সমাজের কর্মক্ষম জনবল হিসেবে অবদান রাখতে পারে।

পরিদর্শন ও পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী কেন্দ্রের আধুনিকায়ন, শিশুদের নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিশ্চিতকরণে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি নির্মাণাধীন ভবনের নকশা পর্যালোচনাকালে প্রতিবন্ধী শিশুদের যাতায়াতের সুবিধার্থে বিশেষ ‘র‍্যাম্প’ নির্মাণ, নতুন ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং যেকোনো ধরনের জরুরি অগ্নি-দুর্ঘটনা মোকাবেলায় ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন করারও নির্দেশনা দেন। এছাড়া শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত খেলার মাঠ তৈরি এবং শিশুরা যাতে আনন্দের মধ্য দিয়ে সময় অতিবাহিত করতে পারে, এজন্য শিশুদের বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ করে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের তাগিদ দেন। একই সাথে তিনি শিশুদের মাঝে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারেও গুরুত্বারোপ করেন।

শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে জোর দিয়ে অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন নির্দেশ দেন যে, শিশুদের সামনে কোনো অবস্থাতেই কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (আনসার সদস্যদের) বা ভীতি ছড়াতে পারে এমন জিনিসপত্র রাখা না হয়। কেন্দ্রে অবস্থানরত শিশুরা যাতে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে কেন্দ্রকে নিকটস্থ হাসপাতালের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করারসহ বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নতির লক্ষ্যে ডাক্তারদের সম্মানি বৃদ্ধির পরামর্শ দেন। এছাড়া শিশুরা যাতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং ফ্যাট সমৃদ্ধ সুষম খাবার পায় তা নিশ্চিত করতে তিনি কেন্দ্র প্রধানকে নির্দেশ দেন প্রয়োজনে শিশুদের জন্য সরকার হতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা যেন বর্তমান বাজারের মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তিনি সভায় উপস্থিত সমাজকল্যাণ সচিবকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

উক্ত পর্যালোচনা সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহ্‌বুবসহ স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights