সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয় : প্রধানমন্ত্রী
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দলের বা পরিবারের সম্পত্তি নয়। বরং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং এ দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়। গতকাল ঢাকা সেনানিবাসের সেনাপ্রাঙ্গণ মিলনায়তনে এক বিশেষ দরবার অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম ও তিন বাহিনীর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, তিন বাহিনীর (সেনা, নৌ ও বিমান) প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আমরা এমন এক সশস্ত্র বাহিনী চাই, যাদের দেশের জনগণ আস্থায় রাখবে, আর বহিঃশক্তি সমীহ করবে। সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের শক্তি এবং মর্যাদার প্রতীক। দেশের সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং জনগণের অবিচল আস্থাই হতে হবে সশস্ত্র বাহিনীর পথ চলার প্রধান ভিত্তি। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের চূড়ান্ত দায়িত্ব।
পেশাদারত্বের প্রশ্নে কোনো আপস না করে সশস্ত্র বাহিনীকে সব সময় সুউচ্চ আদর্শিক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি স্তরে দেশপ্রেমের যে অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন, তা যেন কখনো নিভে না যায়। তিনি আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকান্ড চালিয়ে সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। এরপরের শাসনামলেও নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে এ বাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্ট-পরবর্তী থেকে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো মেয়াদে সশস্ত্র বাহিনীর ইতিবাচক ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করতেও সেনাবাহিনী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিএনপি সরকারই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনীর ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারত্ব ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী তাদের দল-মতের ঊর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানান। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংবিধানের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, জনগণের আস্থা অটুট রাখা এবং সর্বোপরি কর্মে, সততায়, শপথে ও ত্যাগের মাধ্যমে দেশকে ভালোবাসার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার নির্দেশনা দেন।
রাষ্ট্র মেরামতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, দেশের প্রতিটি সেক্টর সংস্কার ও প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের ইশতেহার আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। রাষ্ট্র মেরামতের লক্ষ্যে বিএনপি ‘জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করেছিল। জুলাই সনদের প্রতিটি দফা ঠিক যেভাবে ছিল, সেভাবেই বাস্তবায়নে এ সরকার বদ্ধপরিকর।
দরবার অনুষ্ঠানে ঢাকায় অবস্থানরত সামরিক ও অসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্যরা সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য সেনানিবাস ও স্থানে অবস্থানরত সদস্যরা ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে এ দরবারে অংশ নেন।
