সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিতে ইসিকে আরও কঠোর হতে হবে: ইডব্লিউএ

অনলাইন প্রতিবেদক

সুষ্ঠু, অবাধ ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও কঠোর ও দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ)। সংগঠনটির বক্তারা জানিয়েছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারাদেশে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নারীর প্রতি সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (ইডব্লিউএ)–এর উদ্যোগে আয়োজিত “সহিংসতামুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণ: নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আবশ্যিক করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ও ইডব্লিউএ’র প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. মো. শরিফুল আলম।

সভায় ইডব্লিউএ’র পক্ষে সারাদেশের মাঠপর্যায়ের তথ্য উপস্থাপন করেন মানারত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের প্রধান রফিকুজ্জামান রুমান। তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, নারীর প্রতি সহিংসতা, অবমাননা ও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ২৭৫টি ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব ঘটনা দেশের অন্তত ৩৬টির বেশি জেলায় বিস্তৃত এবং তা নির্বাচনকালীন ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ ও ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে।

আলোচনায় বক্তব্য রাখেন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তৌফিক এম হক, প্রফেসর ড. ওয়ারেসুল করিম বুলবুল, সাবেক কূটনীতিক আব্দুল মোতালেব সরকার, সাবেক জেলা জজ ইকতেদার আহমেদ, সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির, সাবেক অতিরিক্ত সচিব ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক মিলি রহমান এবং ইডব্লিউএ’র ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়াসহ আরও অনেকে।

নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. তৌফিক এম হক বলেন, মাঠপর্যায়ে নির্বাচনী আমেজ থাকলেও কিছু গুরুতর ঝুঁকির লক্ষণ স্পষ্ট। এসব ঝুঁকি মোকাবেলায় নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলোকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। ভোটের ফল প্রকাশে বিলম্ব হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। এ অবস্থায় ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই অস্থিরতা প্রতিরোধে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য এখনই ইসিকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।

সাবেক কূটনীতিক আব্দুল মোতালেব সরকার বলেন, এই নির্বাচন শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য নয়, আন্তর্জাতিকভাবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে যেসব ভুল করেছে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

আলোচনায় বক্তারা সাম্প্রতিক সময়ে মিডিয়া হাউজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। তারা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রেখে পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। বক্তারা অতীতের নির্বাচন কমিশনগুলোর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমান কমিশনও একই পথে হাঁটলে তাদেরকেও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, চব্বিশের জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে জনগণ ব্যাপক প্রত্যাশা নিয়ে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু সারাদেশে আচরণবিধির নির্বিচার লঙ্ঘন, কালো টাকার ব্যবহার, নারীদের ওপর সহিংসতা ও রাজনৈতিক সহিংসতা বাড়তে থাকায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব পরিস্থিতিকে আরও শঙ্কাজনক করে তুলছে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. শরিফুল আলম বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়ন নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কমিশন স্পষ্টতই ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন দৃঢ় অবস্থান না নিলে মাঠ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে না। তবে এখনো সময় আছে উল্লেখ করে তিনি ইসিকে অবিলম্বে কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights