হাইতিতে গ্যাং সহিংসতা ও অভিযানে নিহত-আহত ৫৭০০ ছাড়াল
অনলাইন ডেস্ক
হাইতিতে সশস্ত্র গ্যাংয়ের সহিংসতা এবং তাদের দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে চলতি বছরের প্রথম সাড়ে আট মাসে ৫ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষ নিহত বা আহত হয়েছেন।
একই সময়ে ২৩০ জনের বেশি মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া গ্যাং সদস্যদের হাতে এক হাজারের বেশি নারী ও কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব হতাহতের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে নিহত ও আহতের সম্মিলিত সংখ্যার মধ্যে শুধু গ্যাংয়ের হামলায় হতাহত ব্যক্তিরাই নন, গ্যাংবিরোধী নিরাপত্তা অভিযান চলাকালে হতাহতরাও রয়েছেন।
টুর্ক বলেন, মোট হতাহতের অর্ধেকের বেশি নিরাপত্তা অভিযান চলাকালে ঘটেছে। এসব অভিযানের সময় বিপথগামী গুলি ও বিস্ফোরক ড্রোনের আঘাতে বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। গ্যাং দমনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
হাইতিতে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র গ্যাংগুলোর প্রভাব রয়েছে। রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা অপহরণ, চাঁদাবাজি, হত্যাকাণ্ড ও যৌন সহিংসতা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এসব গোষ্ঠী। ২০২১ সালে প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইজ হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষমতার শূন্যতা দেশটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করে।
শিশুদের গ্যাংয়ে নিয়োগের ঘটনাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। জাতিসংঘের হিসাবে, গ্যাংয়ে শিশুদের নিয়োগ ও ব্যবহার প্রায় তিন গুণ হয়েছে। দারিদ্র্য, নিরাপত্তাহীনতা এবং বেঁচে থাকার তাগিদে অনেক শিশু এসব গোষ্ঠীতে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন টুর্ক।
সহিংসতার কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও বিপর্যস্ত। চাঁদাবাজি, লুটপাট ও সম্পদ ধ্বংসের ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। নিরাপত্তার অভাবে বহু মানুষ স্কুল, হাসপাতাল ও জরুরি সেবায় পৌঁছাতে পারছেন না।
এ পরিস্থিতিতে হাইতিতে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সহায়তার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। গ্যাং দমনে মোতায়েন বহুজাতিক বাহিনী এখনও নির্ধারিত জনবলের তুলনায় অনেক ছোট এবং গ্যাং নিয়ন্ত্রিত এলাকায় অভিযান চালাতে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়ছে।
আগামী ১৩ ডিসেম্বর হাইতিতে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০১৬ সালের পর দেশটিতে এটিই হবে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তবে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মতো পরিবেশ তৈরি করা কঠিন বলে মনে করছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান।
টুর্কের মতে, সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দেশটির সংকট আরও গভীর হতে পারে।
তথ্য সূত্র : বিবিসি।
