হামজার বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম: ভুটান অধিনায়ক

অনলাইন ডেস্ক
শুরু হচ্ছে সাফের ১৫তম আসর। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে তিন টায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের। দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের ময়দানে বাংলাদেশ রাত সাড়ে ৮টায় মোকাবিলা করবে ভুটানকে। যে ম্যাচে বাংলাদেশ পাচ্ছে না ইংল্যান্ডের লিগে খেলা ফারহান আলী ওয়াহিদ এবং হামজা চৌধুরীকে।

পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে হতে যাওয়া ম্যাচকে সামনে রেখে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে ভুটান অধিনায়ক চেনচো, কোচ গ্যারি ফিলিপস বলেন তাদের দলীয় লক্ষ্যের কথা।

চেনচো বরং হামজার বিপক্ষে খেলার সুযোগ না পাওয়া নিয়ে কথা বললেন বেশি, ‘গতবার চোটের কারণে আমি আসতে পারিনি এবং ভুটানের হয়ে খেলতে পারিনি। ফলে হামজার বিপক্ষে খেলাটা আমি মিস করেছি। এবার হামজা খেলছে না বলে আমি খুশি নই। আসলে আমি চেয়েছিলাম হামজা খেলুক। কারণ সবাই জানে সে আমাদের সাফ অঞ্চলের একজন অনেক বড় তারকা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, আমি শুনেছি সে প্রথম ম্যাচের জন্য আসছে না।’

‘যেমনটা বললাম, হামজা খেললে তার বিপক্ষে খেলতে ভালো লাগতো। কিন্তু সাফ জেতা প্রতিটি দলেরই স্বপ্ন। তাই আমরা প্রথম ম্যাচটা জেতার চেষ্টা করব এবং সেমি-ফাইনালের জন্য নিরাপদ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দলেই আছে প্রবাসী খেলোয়াড়। শ্রীলঙ্কার তো স্কোয়াডের ১৮জনই বংশোদ্ভূত। তবে ভুটানের সবাই স্থানীয়। চেনেচো তাদের নিয়েই খুশি, ‘আমি মনে করি এখন বিশ্ব ফুটবল অনেক বদলে গেছে। এখন শুধু বাংলাদেশ বা শ্রীলঙ্কা নয়, আমার মনে হয় বেশিরভাগ দেশই, যেমন ইন্দোনেশিয়া অনেক ‘প্রবাসী’ খেলোয়াড় নিচ্ছে। আমি মনে করি একমাত্র ভুটান দলই শতভাগ ভুটানি। তাই জাতীয় দলের হয়ে, ১০০% ভুটানিদের নিয়ে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি খুব গর্বিত।’

ভুটানের অস্ট্রেলিয়ান কোচ গ্যারি ফিলিপস অবশ্য প্রস্তুতির কমতির কথা জানালেন রাখঢাক না করেই, ‘যেমনটা আমি আগেই বলেছি, প্রস্তুতি ছাড়া যেকোনো দলের বিপক্ষে খেলাটা সবসময় খুব কঠিন। আর স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলাটা স্বভাবতই সবার ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। তবে এটি কোনো এএফসি বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের টুর্নামেন্ট নয়, এটি স্থানীয় দেশগুলোর জন্য একে অপরের সাথে খেলার একটি সুযোগ।’

‘আমাদের প্রস্তুতিটা কিছুটা ধাপে ধাপে হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত আমরা কোনো ম্যাচ (প্রস্তুতি) খেলিনি। আমি কয়েক সপ্তাহ আগে অনূর্ধ্ব-২০ দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। গত ফিফা উইন্ডোতে ভুটান একটি জাতীয় লিগ খেলেছিল, তাই খেলোয়াড়দের সেখান থেকে নিয়ে আসা কঠিন ছিল; তবে এটি আমার জন্য খেলোয়াড়দের দেখার এবং সেরা স্কোয়াড নির্বাচন করার একটা সুযোগ ছিল। বাংলাদেশ বা অন্যান্য দলের মতো আমাদের তেমন প্রস্তুতি হয়নি, তবে আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছি।’

বাংলাদেশ, ভুটান বাদে এই গ্রুপের অন্য দল শ্রীলঙ্কা। ৬ দলের প্রতিযোগিতায় ভারত, পাকিস্তান ও মালদ্বীপ পড়েছে এক গ্রুপে। গ্রুপ পর্বে এগিয়ে থাকা শীর্ষ দুটি করে দল যাবে সেমিফাইনালে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights