১৮ মার্কিন সেনার প্রাণহানির পরও ইরান যুদ্ধকে ‘তুচ্ছ’ বললেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে গত ছয় মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতকে ‘তুচ্ছ বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই সংঘাতে ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও বেড়েছে। তবে ট্রাম্প এটিকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘অনেকে একে যুদ্ধ বলতে চান না। আমি একে একটি সামরিক সংঘাত বলি, কারণ এটি আমাদের জন্য খুবই তুচ্ছ একটি বিষয়। এটি বড় কোনো ব্যাপার নয়।’

এর এক দিন আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ‘যুদ্ধ’ বলা ঠিক হবে না। তাঁর দাবি, প্রধান সামরিক অভিযানগুলো মাসখানেক আগেই শেষ হয়েছে।

ভ্যান্সের বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে এখন সংঘাত আগের মতো নিয়মিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র মাঝে মাঝে সেখানে হামলা চালাচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলব, এটি একটি সাময়িক প্রক্রিয়া। আপনারা জানেন, আমরা এখন বিরতি দিয়ে হামলা চালাই। সত্য কথা হলো, বর্তমানে আমরা কিন্তু লড়াই করছি না। এখন কোনো সরাসরি যুদ্ধ চলছে না।’

হরমুজে সামরিক অভিযান

তবে চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার, নৌঘাঁটি ও যোগাযোগকেন্দ্রসহ প্রায় ৬০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

একই সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপারে সহায়তা করছে।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ওয়াশিংটন এখন শুধু সামরিক অভিযানের ওপর নির্ভর না করে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকেও জোর দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ইরানের বাণিজ্যিক সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার চীনের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি মাসেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিন পিংকে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। ইরানকে চীনের সহায়তার বিষয়টিও তিনি গুরুত্বহীন করে দেখেছেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘তারা প্রকৃতপক্ষে এই সংঘাতে জড়িত নয়। এখানে চীনের ভূমিকা খুবই সামান্য। অথচ চীন চাইলে এতে বড় ভূমিকা রাখতে পারত।’

পিকঅ্যাক্সে হামলার হুমকি

হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পথ ও পাইপলাইন তৈরির ওপরও জোর দিয়েছেন ট্রাম্প। সিরিয়ার মধ্য দিয়ে বিকল্প স্থলপথের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তারা (ইরান) এই জটিল প্রণালিটি নিয়ে পড়ে থাকবে, যার হয়তো আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না।’

সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প আরও জানান, তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত একটি সন্দেহভাজন ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় শিগগিরই নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে।

‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতের ভূগর্ভস্থ স্থাপনার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে আঘাত হানতে পারি।’

বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একটি বড় অংশ ‘পিকঅ্যাক্স’ পর্বতের ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় স্থানান্তর করেছে।

সূত্র: ফরচুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights