ইরান-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তুরস্কের ব্যাংককে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তুরস্কের একটি ব্যাংক ও এর দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় শুক্রবার গোল্ডেন গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক) বিরুদ্ধে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) কুদস ফোর্সের হয়ে কয়েক কোটি ডলারের লেনদেনে সহায়তা এবং ইরান সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ স্থানান্তরে ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে।

মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সোনা ও নগদ অর্থ ব্যবহার করে চীন থেকে তুরস্কে ইরানের তেল বিক্রির রাজস্ব স্থানান্তরে দেশটির ‘রাহবার নেটওয়ার্ক’ বা ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সহায়তা করার উদ্দেশ্যেই ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক ও এর দুটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের (ওএফএসি) বিশেষভাবে মনোনীত নাগরিকদের (এসডিএন) তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার হারাবে।

আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ অস্বীকার করেছে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক। শুক্রবার এক বিবৃতিতে ব্যাংকটি জানায়, তারা স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং কমপ্লায়েন্সের সব নিয়ম মেনে চলেছে।

ব্যাংকটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে পারে এমন কোনো লেনদেন তারা করেনি।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা অত্যন্ত কার্যকরভাবে আপত্তি জানানোর অধিকার প্রয়োগ করব এবং আইনি পথ অবলম্বন করব। এসব অভিযোগ ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

ব্যাংকটি আরও দাবি করেছে, ওএফএসি’র সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো কখনোই গোল্ডেন গ্লোবালের গ্রাহক ছিল না এবং বর্তমানে নেই।

তুরস্কের আর্থিক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন নয়: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম বারাক শনিবার বলেছেন, গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে নেওয়া এই পদক্ষেপকে পুরো তুরস্কের ওপর কোনো মূল্যায়ন হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘তুর্কি আর্থিক ব্যবস্থার স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই; প্রশ্ন হলো একটি প্রতিষ্ঠানের আচরণ নিয়ে।’

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কঠিনভাবে বুঝতে পারছে যে আমরা “অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট” নিয়ে কতটা কঠোর।’

তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ জোরদার করেছে।

এর আগে গত সপ্তাহে মিসরের দ্বিতীয় বৃহত্তম একটি ব্যাংকের সংযুক্ত আরব আমিরাতের কার্যক্রমের আর্থিক প্রবেশাধিকার বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই ব্যাংকের বিরুদ্ধে ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেন প্রক্রিয়াকরণে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

মঙ্গলবার জি-২০ সম্মেলনের ফাঁকে স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, তেহরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক চাপ জোরদারের অংশ হিসেবে ওয়াশিংটন চলতি সপ্তাহে একটি এবং পরের সপ্তাহে আরও একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করতে পারে।

সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights