৫০০-তে ‘কষ্ট পাওয়া’ সেই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোটি রুপি ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আইএএস (ভারতীয় প্রশাসনিক সেবা) বা আইপিএস (ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া নতুন কর্মকর্তাদের মুখে প্রায়ই দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার শোনা যায়। কিন্তু প্রশাসনিক পদে বসার পর সেই আদর্শের সঙ্গে বাস্তবতার বৈপরীত্য সাধারণ নাগরিককে চরম হতাশ করে। ছত্তিশগড় ক্যাডারের ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস) কর্মকর্তা রাহুল বনশলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি এমনই এক নজিরবিহীন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
প্রথম মাঠপর্যায়ের পোস্টিংয়েই তার বিরুদ্ধে ১ কোটি রুপি ঘুষ নেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এই গুরুতর অভিযোগের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে তার সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিকালীন একটি মক ইন্টারভিউয়ের পুরোনো ভিডিও, যেখানে তাকে ৫০০ রুপির ঘুষ দেওয়ার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করা ওই মক ইন্টারভিউ ভিডিওতে রাহুল বনশলকে দুর্নীতি, সুশাসন এবং জনপ্রশাসনে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রাঞ্জল বক্তব্য দিতে শোনা যায়। সাক্ষাৎকার বোর্ডে নিজের এক তিক্ত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে তিনি জানান, তার ভাই যখন আইআইটি কানপুরের ছাত্র ছিলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটি গবেষণা নিবন্ধ উপস্থাপনের জন্য ভিসার আবেদনের কাজে জরুরি ভিত্তিতে একটি জন্মসনদের প্রয়োজন হয়। ওই নথিটি দ্রুত পাওয়ার জন্য স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্মকর্তা তাদের কাছে ৫০০ রুপি ঘুষ দাবি করেন। ওই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে প্যানেলের সামনে বনশল বলেছিলেন, ৫০০ রুপি ঘুষ দেওয়ার সময় আমার অত্যন্ত খারাপ লেগেছিল।
মক ইন্টারভিউ বোর্ডে বনশল আরও বলেন, প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরে দুর্নীতি ও অদক্ষতা বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও অল্প কিছু অসাধু কর্মকর্তার কাজের জন্য পুরো ব্যবস্থার সবাইকে বিচার করা অন্যায়। একই সঙ্গে তিনি পুলিশ সংস্কার এবং জনগণের কাছে আরও সহজে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছিলেন। তবে বছর ঘুরে সেই বক্তব্যই এখন তার জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইপিএস পদে যোগ দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ১ কোটি রুপি ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠার পরপরই নেটিজেনরা সেই পুরোনো ভিডিও ক্লিপটি সামনে নিয়ে আসেন। ৫০০ রুপির ঘুষে কষ্ট পাওয়া একজন মানুষ কীভাবে ১ কোটি রুপির দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তা নিয়ে নেটপাড়ায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ছত্তিশগড় ক্যাডারের এই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিশ্রুতিশীল হিসেবে বিবেচিত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ১ কোটি রুপির দুর্নীতির এই অভিযোগটি এখনো তদন্তাধীন এবং এটি আদালতে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হতে বাকি রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরালে রূপ নেওয়া এই ভিডিও কর্মকর্তা ও আমলাদের নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং তরুণদের বলা আদর্শিক কথার সঙ্গে বাস্তব জীবনের ব্যবধানকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। চলমান তদন্তের পাশাপাশি বনশলের নিজের মুখের সেই পুরোনো ভিডিও ক্লিপটি এখন গোটা বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করে তুলেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
