৭ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত, নিহত ১৬

অনলাইন ডেস্ক

তিব্বতের দুর্গম ও পার্বত্য অঞ্চলে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী ৭ মাত্রার ভূমিকম্প। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে আঘাত হানা এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।

স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর তথ্য তুলে ধরে চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মূল কেন্দ্র ছিল নাগকু অঞ্চলের বাকেন এলাকায়। ১৯৫০-এর দশকে চীনের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং চীন সরকারের ভাষায় ‘তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাটি তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

ভূমিকম্পের পরপরই স্থানীয় প্রশাসন চরম জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গম এলাকাগুলোতে দ্রুত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া খবরে জানা গেছে, এই ঘটনায় আরও অন্তত ৩২ জন গুরুতর ও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

ভূমিকম্পের তীব্র প্রভাবে আক্রান্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ দুর্যোগে অন্তত ৩৩৯টি ঘরবাড়ি ও বসতভিটা মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে সেখানকার প্রধান সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এতে করে উদ্ধারকারী দলগুলোর পক্ষে উচ্চ-উচ্চতার দুর্গম অঞ্চলগুলোতে পৌঁছানো মারাত্মক কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রধান কেন্দ্র ছাড়াও তিব্বতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহর, যেমন কামদো এবং নিংচিতেও প্রবল কম্পন অনুভূত হয়েছে।

দুর্যোগের সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে ভবনগুলো যখন তীব্রভাবে কাঁপছিল, তখন আতঙ্কে গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় দিকবিদিক ছুটোছুটি করছেন। তবে রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধের কারণে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তিব্বত অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবেই ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। এর আগে ২০২৩ সালে পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি প্রদেশ গানসুতে ৬.২ মাত্রার এক ভূমিকম্পে ১২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তাছাড়া দুই মাসেরও কম সময় আগে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে তিব্বত ও নেপালজুড়ে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছিল, যাতে অন্তত ১,৪০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে এবং এখনও শতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

সূত্র: বিবিসি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights