আইসিসির নিয়ম ভেঙে দক্ষিণ আফ্রিকা টেস্টের দায়িত্বে স্বাগতিক আম্পায়ার

অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান দ্বিতীয় ম্যাচে টেস্ট আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হয়েছে আরনো জ্যাকবসের। যদিও আইসিসির নিয়মে টেস্টে প্রতিপক্ষ দুই দেশের আম্পায়ার দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাকবসের টেস্ট আম্পায়ার হিসেবেই অভিষেক হলো সেই নিয়ম ভেঙে।

মূলত অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো নিউজিল্যান্ডের ক্রিস গ্যাফানির পরিবর্তে আরনো জ্যাকবসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইংল্যান্ডের রিচার্ড ইলিংওয়ার্থের সঙ্গে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল গ্যাফানির। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করার সময় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইনিংসের ৭৬তম ওভারের সময় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান আইসিসির এই এলিট আম্পায়ার।

অন-ফিল্ডে না থাকলেও, গবেরহায় চলমান টেস্টে চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবেই মূলত দায়িত্ব পেয়েছিলেন জ্যাকবস। আর টিভি আম্পায়ার ছিলেন ইংল্যান্ডের রিচার্ড কেটেলবোরো। নিয়ম অনুযায়ী কেটলবোরোর অন-ফিল্ড আম্পায়ার এবং জ্যাকবসের টিভি আম্পায়ারের ভূমিকায় থাকার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে মাঠের আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জ্যাকবস, আর টিভি আম্পায়ার হিসেবেই রয়েছেন কেটেলবোরো। ঠিক কী কারণে আইসিসির নিয়ম লঙ্ঘন হলো সেই ব্যাখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়নি কোনো পক্ষই।

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত আইসিসির পুরুষদের টেস্ট ম্যাচের শর্তাবলির ২.১.৪ ধারা অনুযায়ী, মাঠের দুই আম্পায়ারকে অবশ্যই প্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের বাইরের কেউ হতে হবে। সর্বশেষ খেলার শর্তাবলি অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে তৃতীয় আম্পায়ার মাঠের আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেন এবং চতুর্থ আম্পায়ার তৃতীয় আম্পায়ারের দায়িত্ব নেন। এ ছাড়া ২.২ ধারায় অসুস্থতা বা চোটের মতো ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে আম্পায়ার পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, আগে কখনও টিভি আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন না করায় জ্যাকবসকে ওই ভূমিকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে দাবিটি সঠিক নয়। এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনটি ম্যাচে টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন জ্যাকবস। এর মধ্যে দুটি পুরুষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এবং একটি নারী ওয়ানডে আন্তর্জাতিক ম্যাচও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আরনো জ্যাকবস এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেছেন। ১৪৪ ম্যাচে ১৭ সেঞ্চুরিতে তার রান ৮৪৯২ রান। এ ছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ১৬৪ ম্যাচ খেলে তার ব্যাটিং গড় ৩৩.১১। টেস্ট আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হওয়া জ্যাকবস অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশে থাকা সিমন হারমারের সঙ্গেও খেলেছিলেন। সাবেক সতীর্থরা এখন একই ম্যাচে দুই ভূমিকায়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights