আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা

খুলনার অধিকাংশ বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির (স্বাভাবিক প্রসব) জন্য লেবার রুম নেই। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান বন্ধ ও স্বাভাবিক প্রসবের পরিবেশ নিশ্চিত করতে ১১ জুলাইয়ের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে লেবার রুম বাধ্যতামূলক করা হলেও অনেকেই তা মানেননি। অনেক স্থানে অপ্রশিক্ষিত বা স্বল্প প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সিজারিয়ান করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছে মা ও নবজাতকের নিরাপত্তা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগে সিজারিয়ান ডেলিভারির হার ৫৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ। যা দেশে অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সর্বোচ্চ। ২০১২-১৩ সালে এ হার ছিল ১৯-২৫ শতাংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, আদর্শ হার ১০-১৫ শতাংশ হলেও বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গি, সচেতনতা অভাবে সিজারিয়ান বাড়ছে। বাংলাদেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুসারে খুলনায় বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতাল রয়েছে প্রায় ৪০০। এর মধ্যে ৯০-৯৫ ভাগ ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির আলাদা লেবার রুম নেই।

বিভিন্ন অলিগলিতে গড়ে ওঠা অনুমোদনহীন বেসরকারি ক্লিনিক সিজিরিয়ান বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু। গত দুই দিনে নগরীর বয়রা মাদ্রাসা গলিতে নিউ মেঘনা ক্লিনিক, নিউ সিটি ম্যাক্স ক্লিনিকসহ ২০টির বেশি ক্লিনিক-হাসপাতালে গেলে কোথাও আলাদা লেবার রুম দেখা যায়নি। নিউ মেঘনা ক্লিনিকে দোতলার একটি কক্ষকে নরমাল ডেলিভারির লেবার রুম দাবি করলেও সেখানে সিজারিয়ানে জন্ম নেওয়া শিশু ও প্রসূতি মাকে অবস্থান করতে দেখা যায়। নিউ সিটি ম্যাক্স ক্লিনিকের মালিকানা সদ্য বদল হওয়ায় তারাও লেবার রুম চালু করেনি। তেরখাদার বারাসাত গ্রামের বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক মুনসুর শেখ বলেন, ‘আমার বাড়ির এপাশ-ওপাশ দিয়ে চারটি ক্লিনিক। তারা সিজার ছাড়া লোকাল রোগী দেখতে চায় না। সিজার করলে ভালো হয়, ঝুঁকি থাকে না, মায়ের পেটে শিশু স্বাভাবিক নেই-এসব ভয়ভীতি দেখিয়ে সিজারিয়ান করতে বাধ্য করে। ছোট ক্লিনিকে ২৫-৬০ হাজার টাকায় সিজারিয়ান হলেও বড় ক্লিনিকে ব্যয় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ওপরে।’ ডক্টরস পয়েন্ট স্পেশালিস্ট হাসপাতালের সিইও তৌহিদুল ইসলাম জানান, আলাদা লেবার রুম প্রস্তুত করতে আলাদা ম্যানপাওয়ার, ডেডিকেটেড প্লেসসহ পুরো সার্ভিসটা চালু করতে সময় লাগবে। বাংলাদেশ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন, খুলনার সভাপতি ডা. গাজী মিজানুর রহমান জানান, ১৯৮২ সালের বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপন আইনে আলাদা লেবার রুম থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করলে তা সবার জন্য সহনীয় হবে। এদিকে সব বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে বাধ্যতামূলক লেবার রুম স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়ার কথা বলেছেন সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন। তিনি বলেন, নরমাল ডেলিভারি উৎসাহিত করতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights