ইরান যুদ্ধের ৬ মাসে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানির মুনাফা ১৩০ বিলিয়ন ডলার
অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপুল মুনাফা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো। গত ছয় মাসে দেশটির ৫০টির বেশি বড় জ্বালানি কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ১৩ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি মুনাফা করেছে। অথচ একই সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সেখানকার সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে পেট্রোল ও ডিজেলের বাড়তি দামে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এসব মার্কিন কোম্পানির মোট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় তিন গুণ হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে তাদের সম্মিলিত মুনাফা ছিল ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও কম। অর্থাৎ যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট বড় কোম্পানিগুলোর আয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের সমপরিমাণ তেল আগে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে।
ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সনমোবিল, শেভরন, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি), শেল ও টোটালএনার্জিস এই পাঁচ কোম্পানি তৃতীয় প্রান্তিকে সমন্বিত নিট মুনাফা করেছে ৫ হাজার ৬৩০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেকটিই বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছাড়িয়ে গেছে।
এর মধ্যে এক্সনমোবিলের পরিশোধন ব্যবসায় মুনাফা হয়েছে ৯০৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ। অন্যদিকে শেভরন পরিশোধন, জ্বালানি বিপণন ও সংশ্লিষ্ট খাত থেকে আয় করেছে ৪৯৩ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটির এই আয় বিভাগটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ত্রৈমাসিক মুনাফা।
জ্বালানির বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ গ্রাহকদের ওপরও। এএএর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে দেশটিতে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রোলের গড় দাম ছিল ২.৯৮ ডলার। তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.২০ ডলারে। ডিজেলের দামও প্রতি গ্যালন ৩.৬৮ ডলার থেকে বেড়ে ৬.৩২ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে, মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর অতিরিক্ত মুনাফা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত আগস্টে এক্সনমোবিল ও শেভরনকে মুনাফার একটি অংশ সাধারণ মানুষের জন্য ফিরিয়ে দেওয়ার এবং খুচরা জ্বালানির দাম কমানোর আহ্বান জানান তিনি। তবে পরবর্তী সময়ে জর্জিয়ায় এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের তেল ও গ্যাস খাতের বিপুল আয়ের প্রশংসাও করেন।
তথ্যসূত্র : নিউ ইয়র্ক পোস্ট
