ইরান সমঝোতায় আগ্রহী, তবে পারমাণবিক অস্ত্র ঠেকানোই মূল শর্ত: রুবিও
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ‘খুবই আগ্রহী’। তবে যে কোনো চুক্তির মূল শর্ত হবে—ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে অগ্রসর হতে না পারে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বর্তমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসতেই ইরান আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। রুবিও বলেন, ইরানের অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, বেতন পরিশোধে সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ আগের চেয়ে আরও তীব্র।
তার ভাষায়, সংঘাত শুরুর আগে ইরানের যেসব সমস্যা ছিল, সেগুলো এখনো আছে—বরং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো আরও খারাপ হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি মেনে নেবে না, যার ফলে ভবিষ্যতে ইরান দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্রের পথে এগোতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো—একটি চুক্তির মাধ্যমে সেই সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে ঠেকানো।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে আলোচনা হলেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই আলোচনা হয়েছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে। এর আগে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি পরে বাড়ানো হয়।
এদিকে রুবিও হরমুজ প্রণালি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে না। ইরান যদি অনুমতি বা অর্থের বিনিময়ে জাহাজ চলাচলের শর্ত দেয়, সেটিকে ‘উন্মুক্ত প্রণালি’ বলা যায় না।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমেছে। ইরান এই সরু জলপথ বন্ধ করে দেওয়ায় তেল ও গ্যাস সরবরাহ কমেছে, যার ফলে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। রুবিওর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে প্রস্তুত—কিন্তু আন্তর্জাতিক আইন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেবে না।
