উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানি ব্যাহত, উৎপাদন বাড়াচ্ছে না ওপেক প্লাস
অনলাইন ডেস্ক
ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় ডিসেম্বরের জন্য তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেল উৎপাদক ও রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ‘ওপেক প্লাস’। সৌদি আরব ও রাশিয়াসহ সাত সদস্যের এক ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখন জোটটির নজর আগামী ২৯ নভেম্বরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকে। সেখানে ২০২৭ সালের জন্য নতুন উৎপাদন কোটা নির্ধারণ করা হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববারের ওই ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান অংশ নেয়। অক্টোবর ও নভেম্বরের মতো ডিসেম্বরেও উৎপাদন না বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত অনেকটাই অনুমেয় ছিল। ২০২৬ সালে কয়েক দফায় উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকলেও সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম তেল উত্তোলন করছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন হ্রাসের সিদ্ধান্তটি গত সেপ্টেম্বরে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত জোটের বেশির ভাগ সদস্যের জন্য দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমানোর আলাদা একটি সিদ্ধান্ত এখনো বহাল রয়েছে।
রাইস্ট্যাড-এর বিশ্লেষক হোর্হে লিওন জানান, রোববারের সিদ্ধান্তটি সহজ হলেও আগামী বছরের জন্য উৎপাদন কাঠামো নির্ধারণ করা বেশ কঠিন হবে। আগামী ২৯ নভেম্বরের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ওপেক প্লাসের ২১টি সদস্য দেশ ২০২৭ সালের উৎপাদন কোটা নিয়ে আলোচনা করবে। নতুন কোটা ঠিক করতে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা পর্যালোচনার কথা রয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বেশ কয়েকটি প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এই পর্যালোচনা জটিল রূপ নিয়েছে।
অন্যদিকে বিশ্ব তেলের বাজারও সরবরাহ ঝুঁকিতে রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) সতর্ক করেছে, উপসাগরীয় তেলের রপ্তানি স্বাভাবিক হলে ২০২৭ সালে বিশ্ববাজারে বিশাল উদ্বৃত্ত দেখা দিতে পারে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেলের দামও বেশ ওঠানামার মধ্যে আছে। গত শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১১৮ ডলারে পৌঁছেছে, যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। এখন অতিরিক্ত সরবরাহ দিয়ে বাজার ভাসিয়ে দেওয়া কিংবা সরবরাহ স্বাভাবিক করার মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে ওপেক প্লাসকে।
