কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা

অনলাইন ডেস্ক
দেশে দিন দিন বাড়ছে হদরোগী। এই বৃদ্ধির জানা-অজানা নানা কারণ রয়েছে। আর এই হৃদরোগীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর হচ্ছে কোনোরকম কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই চিকিৎসা সম্ভব। এমনটাই জানালেন মাতৃভূমি হার্ট কেয়ারের চিকিৎসক সাদিয়া আলী অলিন।

তিনি বলেন, প্রচলিত হৃদরোগের চিকিৎসায় রিং বা বেলুন ব্যবহারের পাশাপাশি কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই চিকিৎসার বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে আমরা কাজ করছি। চিকিৎসার সফলতার হার ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশের বেশি। চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা খুবই কম।

ডাক্তার সাদিয়া আলী অলিন বলেন, আমাদের হাসপাতালে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এনহ্যান্সড এক্সটার্নাল কাউন্টার পালসেশন (ইইসিপি) ও ব্লাড ক্লিনজিং থেরাপি (বিসিটি) পদ্ধতিতে কিছু রোগীকে চিকিৎসা দিচ্ছে। পদ্ধতিটি প্রথম চীনে উদ্ভাবিত হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রে মানুষের ওপর বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং চিকিৎসা পদ্ধতিটি যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ঔষধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদন পেয়েছে।

কাটা-ছেঁড়া ছাড়াই হার্টের চিকিৎসা নিয়ে তিনি বলেন, হৃৎপিণ্ডে অসংখ্য ছোট রক্তনালি থাকে, যেগুলোর কিছু সাধারণ অবস্থায় খুব বেশি সক্রিয় থাকে না। ইইসিপি ও বিসিটি চিকিৎসার মাধ্যমে এসব রক্তনালিতে রক্তপ্রবাহ বাড়াতে সহায়তা করা হয়। ফলে হৃৎপিণ্ডে রক্ত চলাচলের বিকল্প পথ তৈরি হতে পারে, যাকে ‘ন্যাচারাল বাইপাস’ বলা হয়। হৃৎপিণ্ডে পর্যাপ্ত রক্ত না পৌঁছালে বুকে যে ব্যথা হতে পারে, এই চিকিৎসার লক্ষ্য হলো রক্তপ্রবাহ বাড়িয়ে সে সমস্যা কমাতে সহায়তা করা।

ইইসিপি ও বিসিটি চিকিৎসা নিয়ে ডাক্তার সাদিয়া আলী অলিন বলেন, বিসিটি বা ব্লাড ক্লিনজিং থেরাপিতে স্যালাইনের মাধ্যমে একটি বিশেষ ওষুধ দেওয়া হয়। আমাদের মতে, এ ওষুধ হার্টের ব্লকের ওপর কাজ করে এবং ব্লকের আকার কিছুটা কমাতে সহায়তা করে। এটি ন্যাচারাল বাইপাস বা ইইসিপি চিকিৎসার পাশাপাশি সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে দেওয়া হয়।

তিনি জানান, ইইসিপি চিকিৎসায় সাধারণত ৩০-৩৫ ঘণ্টার সেশন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতিদিন প্রায় এক ঘণ্টা করে ৩০-৩৫ দিন চিকিৎসা নেওয়া যায়। বিসিটি চিকিৎসায় কমপক্ষে ২০টি স্যালাইন সেশন দেওয়া হয়। প্রতিটি সেশনে প্রায় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। সাধারণত এসব চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি থাকার প্রয়োজন হয় না। গরিব, অসহায়, নিম্নবিত্ত মানুষদের জন্য হাসপাতালের ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনায় অনেক কম খরচে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

এসময় তিনি বলেন, হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন খুবই জরুরী। বাইপাস, রিং পরানো কিংবা ন্যাচারাল বাইপাস— যে চিকিৎসাই নেওয়া হোক, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট কমিয়ে শাকসবজি ও উদ্ভিদভিত্তিক খাবার বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। কার্বোহাইড্রেট ও ফ্যাটের পরিমাণ কমিয়ে আনার পরামর্শও দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights