খবর লিখলে, খবর আছে; ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে এক ইউপি চেয়ারম্যানের হুঙ্কার

স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ ॥
তথ্য দেওয়া যাবে না। খবর লিখলে, আমিও দেখে নিব। সরকারী ভিজিডি চালের ভূক্তভোগীদের তালিকা দেখতে চাওয়ায় এক সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে এমন দাম্ভোক্তি দেখিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম খাঁ। এ সময় তিনি স্থানীয় সাংবাদিক আরিফ মোল্ল্যার সাথে হুমকি স্বরুপ অশোভন আচরনও করেন। আজিজুল খাঁ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারন সম্পাদক। মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় মালিয়াট ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি ভূক্তভোগীদের ব্যাংক একাউন্ট ও জমা টাকার তথ্য জানতে চাওয়াাকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটে।
কালীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মোল্ল্যা জানায়, ভিজিডি চাল বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে তিনি গতমঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে মালিয়াট ইউনিয়ন পরিষদে যান। সেখানে দেখতে পান ইসলামী ব্যাংক চাপরাইল বাজার শাখার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম কয়েকজন ভিজিডি ভূক্তভোগী মহিলার ব্যাংক একাউন্ট খোলাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ইউপি সচিব আলতাফ হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানায়, গত বছরের ফেব্রায়ারী থেকে অত্র ইউনিয়নের ১০৩ জন ভিজিডি ভূক্তভোগীকে মাথাপিছু ২শ ২০ টাকা হারে জমা নিয়ে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। তাদেরই একাউন্ট খোলানো হচ্ছে। তবে, এক বছর পর এখন কেন একাউন্ট খোলানো হচ্ছে এমন প্রশ্ন সহ তালিকা চাওয়ায় তিনি সাংবাদিককে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে বলেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলতে গেলেই তিনি সাংবাদিকের উপর ক্ষেপে উঠেন। শুরু করেন মুখ খিস্তি। এক পর্যায়ে দাম্ভোক্তির সুরে বলেন কোন তথ্য দিব না। আপনি খবর লিখলে, আমিও দেখে নিব বলে হুঙ্কার ছোড়েন।
ভিজিডি চালের বিষয়ে ইউনিয়নের ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চেয়ারম্যান আজিজুল খাঁ পরিষদের দফাদার খবিরের মাধ্যমে মাথাপিছু ২শ ২০ টাকা ও টিপসহি নিয়ে ৩০ কেজি করে চাল দিয়ে থাকেন। আদায়কৃত ওই টাকা ভিজিডি ভূক্তভোগীদের ব্যাংক একাউন্টে জমা থাকার কথা। কিন্তু চেয়ারম্যান ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে অসৎ উদ্দেশে নিজের কাছে কুক্ষিগত করে রেখেছে। এমন বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়লে সাংবাদিকরা ওই ইউনিয়নে গেলে অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্ম দেয় চেয়ারম্যান।
পরিষদে গিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে আসা ভিজিডি ভূক্তভোগী ষাটবাড়িয়া গ্রামের আবু সাইদের স্ত্রী তসলিমা বেগম ও মনোহরপুর গ্রামের শাবানা খাতুন জানায়, তারা প্রায় ১ বছর ধরে চাল নিচ্ছে। কিন্তু গত সোমবার ইউনিয়নের চৌকিদার মুক্ত তাদের বাড়িতে এসে জানায়, চেয়ারম্যান আপনাদেরকে পরিষদে গিয়ে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে বলেছে। অন্যথায় আর চাল পাবে না। এজন্য তারা পরিষদে ব্যাংক একাউন্ট খুলতে এসেছেন। আরেক জন ভূক্তভোগী ষাটবাড়িয়া গ্রামের রিপনের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার জানায়, তিনি মাত্র গত ৩ মাস ধরে চাল পাচ্ছেন। এর আগে তাকে চাল দেওয়া হয়নি। তারমত অনেককেই বি ত করে চাল লোপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা তাসলিমা খাতুন জানায়, যাচাই বাছাইয়ের পর ভিজিডি ভূক্তভোগীদের একাউন্ট খোলা হয়। মাথাপিছু ২শ ২০ টাকা করে ভূক্তভোগির একাউন্টে জমার পরই চাউল দেওয়া হয়। তবে যদি কেহ নিয়মের ব্যাপ্তায় ঘটায় তার অভিযোগ আসলে তদন্ত করে ব্যবস্থা বা কার্ড বাতিল করা হতে পারে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান বলেন, ভিজিডি চাল বিতরণের বিষয়গুলি উপজেলা মহিলা অধিদপ্তর দেখভাল করেন। কোন অনিয়ম হলে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights