গাংনীতে বসুন্ধরা শুভসংঘের রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক
“কেমন চাই আগামীর বাংলাদেশ?”— শীর্ষক ভাবনায় গাংনী উপজেলার লুৎফনুন্নেসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই’শ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এক ব্যতিক্রমধর্মী রচনা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ, গাংনী উপজেলা শাখা।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা তাদের কল্পনায় আগামীর বাংলাদেশকে তুলে ধরেছে ন্যায়বিচার, সুশাসন, টেকসই অর্থনীতি, জলবায়ু সচেতনতা, কর্মসংস্থান ও নৈতিকতার আলোকে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ও চিন্তাভাবনায় উঠে আসে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) মেহেরপুর জেলা সভাপতি ও বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার উপদেষ্টা সৈয়দ মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন,‘আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়বে। তাদের চিন্তা-ভাবনায় যদি ন্যায়, মানবিকতা ও দায়িত্ববোধ থাকে, তবে দেশ সঠিক পথেই এগিয়ে যাবে।’

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ মেহেরপুর জেলা সভাপতি এস. এম. রফিকুল ইসলাম বকুল। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘লেখনীর শক্তি দিয়েই সমাজ পরিবর্তন সম্ভব। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেম জাগ্রত করবে।’

‘কেমন চাই আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার সভাপতি রাজু আহমেদ বনি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লুৎফনুন্নেসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন, সহকারী শিক্ষক মো. কামাল হোসেন ও বিল্লাল হোসেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ গাংনী উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. মাহফুজ রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম, কার্যকরী সদস্য ফাহাদ হোসেন শিহাব, ইয়াছিন হাবিব, জায়েদ কবির ও ওয়াহিদুজ্জামান স্বপ্নীল।

রচনা প্রতিযোগিতায় দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোছা. খাদিজা খাতুন প্রথম স্থান অর্জন করে। তার লেখায় উঠে আসে আগামীর বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে টেকসই অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পখাতে উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বেকারত্ব দূরীকরণ এবং খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের গুরুত্ব।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইয়াছির আরাফাত তার রচনায় ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে জীবনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে নৈতিকতা ও সুবিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।

এছাড়াও ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব চিন্তা ও স্বপ্নের বাংলাদেশকে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে তুলে ধরেন। প্রতিযোগিতা শেষে মোট ১৪ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, সচেতনতা ও সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মত দেন উপস্থিত অতিথিরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights