গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধায় সবগুলো নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিস্তার নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এসব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি বা হ্রাস পেলেও তা বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সন্ধ্যা ৬টার তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২০ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩১ সেমি, ঘাঘট নদের পানি ১৫ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৪১ সেমি, করতোয়া নদীর পানি ৬ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৭ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। তিস্তার পানি ৪০ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসাীমার ১ সেমি নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলমান এই বন্যার মৌসুমে এখন পর্যন্ত গাইবান্ধায় কোনো নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

এদিকে মাসখানে ধরে জেলার সবগুলো নদ-নদীর পানি কখনো বাড়ছে, আবার কখনো কমছে। আর এই পানি ওঠা-নামার সঙ্গে নদী তীরবর্তী ২৫টি পয়েন্টে তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতমধ্যে প্রায় ২০০ বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে ২ শতাধিক পরিবার তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সারিয়ে নিচ্ছেন। ভাঙন কবলিত এসব মানুষ অর্ধারে-অনাহারে দিন পার করছে। ভাঙনের খবরে জেলার সংশ্লিষ্ট ও শীর্ষ কর্তারা পরিদর্শনে গেলেও কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে- গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রসুলপুর, ফজলুপুর ইউনিয়নের চৌমহন চর, খাটিয়ামারি, দক্ষিণ খাটিয়ামারি ও কাউয়াবাদা, উড়িয়া ইউনিয়নের রতনপুর, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার ও কেরানীর চর, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী এবং সদর ও সাঘাটা উপজেলার কয়েকটি এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে নদী পাড়ের মানুষ।

সব থেকে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া, কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নে। ভাঙন দেখা দিয়েছে সুন্দরগঞ্জের কাপাসিয়া ইউনিয়নেও। এর মধ্যে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের ভুষির ভিটা গ্রামে শুক্রবার গভীর রাতে পূর্বে ডাম্পিং করা জিও ব্যাগ হঠাৎ তিনটি স্থানে ধসে গেছে। এর মধ্যে এক স্থানে প্রায় ৫০ মিটার, অন্য স্থানে ৩০ মিটার এবং আরেক স্থানে ২০ মিটার এলাকা ডেবে যায়। ধসে যাওয়া তিনটি স্থানের মধ্যে দুটি সাধারণ মানুষের বসতিপূর্ণ এলাকায় এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে অবস্থিত। এতে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙনের খবরে জেলার সংশ্লিষ্ট ও শীর্ষ কর্তারা পরিদর্শনে গেলেও কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফলে চাপা ক্ষোভ, আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা নিয়ে দিন কাটছে নদীপাড়ের বাসিন্দাদের।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, দক্ষিণ রসুলপুরে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হয়েছে। ভুষির ভিটা এলাকায় সংস্কার কাজ চলছে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রস্তুত রয়েছে জানান তিনি।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙন কবলিত চার উপজেলায় ৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। এর সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ২০ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। বাকি উপজেলাগুলোতে পর্যাক্রমে বিতরণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights