গাজীপুরে একই পরিবারের ৫ জনকে হত্যার ঘটনায় গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গোপালগঞ্জে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ফেরেজা বেগম (৬০)। বুক চাপড়ে, বিলাপ করে তিনি শুধু বলছিলেন, আমার ছেলে মেয়ে নাতনিদের মাইরা ফ্যালাইছে। আমার কলিজার টুকরাকে শেষ কইরা দিল। আমি এখন কী নিয়ে বাঁচবো রে আল্লাহ।
শুক্রবার রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে নিহত শারমিন আক্তার ও রসুল মোল্লার স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি উত্তর চরপাড়া পুরো গ্রাম। ছেলে-মেয়ে-নাতনিদের হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন শারমিনের মা ফেরেজা বেগম।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আমার বাজান গতকাল নতুন জামা-প্যান্ট কিনছে। সেই জামা পরে হাসতে হাসতে বোনের বাড়ি গাজীপুর গেছে। কে জানত, ওই যাওয়াই শেষ যাওয়া। আমার রসুল আমার ছোট ছেলে, আমার বুকের ধন। তোরা আমার রসুলরে আইনা দে।
এ কথা বলেই আবারও জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। পাশে থাকা স্বজনেরা তাকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সন্তানের শোকে মুহূর্তেই আবার ভেঙে পড়েন এই মা।
শুক্রবার রাতে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে একই ঘরে পাচঁজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), তার ছেলে রসুল মোল্লা (১৮) এবং নিহত শারমিনের তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (১৪ মাস)।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহাদাত মোল্লা ও ফেরেজা বেগম দম্পতির চার মেয়ে তিন ছেলে (সাত ছেলে মেয়ের) মধ্যে শারমিন আক্তার তৃতীয় ও রসুল মোল্লা সবার ছোট।
নিহত শারমিন ও রসুলদের প্রতিবেশী আবেদ আলী মীর বলেন, বাব-মায়ের সামনে সন্তানদের হত্যা করা হলে বাবা-মা কীভাবে বেঁচে থাকে। আমাদের ভাই গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার)। অনেক কষ্ট করে অভাব অনটনের মধ্যে দিয়ে সন্তানদের বড় করেছে। রসুল মোল্লা গাজীপুরে একটি পোশাক তৈরি কারখানায় চাকরি করতো। থাকতো বড় বোন ফাতেমার বাসায়।
শুক্রবার রসুল শারমিনের বাসায় যাওয়ার পর রাত ৮টায় মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সবাই ভেবেছিলো ফোনে হয়তো চার্জ নেই। ভোর সাড়ে ৫টায় জামাইয়ের ভাই (ফোরকান মোল্লার ভাই) জব্বার মোল্লা ফোন করে বলে, শারমিনের বাসার সবাই মারা গেছে। কিভাবে মারা গেল জানতে চাইলে সে বলে, তার ভাই তাদের ফোন করে জানিয়েছে পরিবারের সবাইকে শেষ করে ফেলছি খুঁজলেও আমাকে পাওয়া যাবে না বলে ফোন কেটে দেয়।
জানা গেছে, প্রায় ১৭ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে সামাজিকভাবে শারমিন আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে ছয় মাস আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গিয়ে বসবাস করছিলেন। ফোরকান প্রাইভেটকার চালিয়ে সংসার চালাতেন।
প্রতিবেশী আবেদ আলী মীর আরও জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ গাজীপুর থেকে গোপালগঞ্জ আনার পর দাফন করা হবে।
