গ্রামীণ ভারতে কাজে লাগবে স্টারলিঙ্ক, দাবি ইলন মাস্কের

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বের অন্য অনেক দেশের মত ভারতকেও বদলে দিয়েছে ইন্টারনেট। এখন ভারতের গ্রামে বসেও দ্রুতগতির ৫জি এবং ওয়্যারলেস ফিক্সড ইন্টারনেট ব্যবহার করে আউটসোর্সিং, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, দূরশিক্ষণ এবং ডিজিটাল ক্যারিয়ার গড়া সম্ভব। তবে এটাও ঠিক ভারতের অনেক দুর্গম এলাকা এখনও পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সেবার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

অনেক এলাকায় ইন্টারনেটের গতি মন্থর। দৈনন্দিন জীবন এবং সরকারি সেবা দিন দিন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায়, এই সংযোগহীনতা গ্রামীণ ভারতের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক বিশ্বাস করেন, তার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ ভারতের সেইসব মানুষকে সাহায্য করতে পারে যাদের এখনো ইন্টারনেট বা মৌলিক সুযোগ-সুবিধায় পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার নেই, বিশেষ করে গ্রামগুলোতে।

শুক্রবার সকালে ইলন মাস্ক এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্ট রি-শেয়ার করেন। মূল পোস্টে ওই ব্যবহারকারী দাবি করেছিলেন, ভারতের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারণের জন্য মাস্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক প্রয়োজন। ইলন মাস্কের রি-শেয়ার করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট অনুযায়ী, ভারতে ১০৯ কোটি ৩০ লাখ ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন থাকার পরও ভারতের ১১ হাজার ২৫৬টি গ্রামে এখনো কোনো ৪জি সংযোগ নেই। পোস্টটিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অবকাঠামোর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। এতে গ্রামীণ অঞ্চলে ব্রডব্যান্ড সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ভারতনেট’ প্রকল্পের আওতায় ৮ লাখ ৫০ হাজার রুট-কিলোমিটারেরও বেশি ফাইবার এবং ৮০ হাজার ৪৭২টি সচল গ্রাম পঞ্চায়েত পয়েন্ট অব প্রেজেন্স-এর কথা উল্লেখ করা হয়।

মাস্ক লিখেছেন, ‘স্টারলিংক ভারতের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষকে সাহায্য করবে।’ বিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক তাঁর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতের প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোতে সেবা দেওয়ার জন্য স্টারলিংক-কে প্রস্তুত করছেন। স্টারলিংক ভারতে টেলিকম লাইসেন্স পেয়েছে। তবুও দেশটিতে বাণিজ্যিকভাবে ব্রডব্যান্ড সেবা চালু করার আগে স্টারলিঙ্ককে এখনো চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রক এবং নিরাপত্তা ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এদিকে স্টারলিঙ্কের আসার খবরে উদ্বেগ বেড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিএসএনএল কিংবা অন্যান্য টেলিকম সংস্থাগুলির। যদিও এ বিষয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় টেলিকম প্রতিমন্ত্রী পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর বলেন, ‘ভারতে স্টারলিঙ্কের সর্বোচ্চ ২০ লাখ গ্রাহক থাকবে। শুধু তাই নয়, স্টারলিঙ্ক মাত্র ২০০ এমবিপিএস পর্যন্ত ইন্টারনেটের সুবিধা দেবে। ফলে এতে টেলিকম পরিসেবার উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।’

স্টারলিঙ্ক যেহেতু কোনও ফাইবার কেবল ছাড়াই সেবা দেয়, তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলেও দ্রুতগতির ইন্টারনেটের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়েও স্টারলিঙ্ক সেবায় কোনও বিঘ্ন দেখা দেয় না। স্টারলিঙ্ক নিয়ে এত আলোচনা সত্ত্বেও কেন মাত্র ২০ লাখ গ্রাহককে পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে, এ প্রশ্নের জবাবে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, আপাতত স্টারলিঙ্ক পরিসেবার ক্ষমতা সীমিত।

তা ছাড়া, স্টারলিঙ্ক পরিসেবার খরচও অন্য টেলিকমের তুলনায় অনেক বেশি। ইতিমধ্যে সারা বিশ্বে ১০০টিরও বেশি দেশে স্টারলিঙ্কের পরিসেবা চালু রয়েছে। একেক জায়গায় পরিসেবা বাবদ খরচ একেক রকম। ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ ভুটান এবং বাংলাদেশেও স্টারলিঙ্ক রয়েছে। দুই দেশেই স্টারলিঙ্কের বাড়িতে ব্যবহৃত ইন্টারনেট পরিসেবার খরচ মাসে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকা। ভারতে মাস্কের সংস্থার ইন্টারনেটের সুবিধা পেতে হলে মাসে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার রুপি খরচ হতে পারে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights