ঘন কুয়াশায় মাঝ নদীতে রাত কাটলো বরযাত্রীর, ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার
জামালপুর প্রতিনিধি
তীব্র শীতের মধ্যে যমুনার মাঝ নদীতেই রাত পার করতে হয়েছে বরযাত্রীদের। এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ১৬ ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বরযাত্রীবাহী নৌকাটি উদ্ধার করে জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জামথল ঘাটে নিয়ে আসা হয়।
ফায়ার সার্ভিস ও নৌকার যাত্রীরা জানান, বরযাত্রী বহনকারী নৌকাটি রাতভর যমুনার মাঝ নদীতে অবস্থান করে। শনিবার ভোরে মাছ ধরার একটি নৌকা দিয়ে তারা জামথল ঘাটের দিকে ফেরার চেষ্টা করে। জামথল ঘাট থেকে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় আরও একটি নৌকা পাঠিয়ে তাদের নিরাপদে ঘাটে নেয়া হয়। পরে সকল যাত্রী নিরাপদে তাদের বাড়ি পৌঁছায়।
বর নিলয় হাসান ছানি জানায়, গতকাল শুক্রবার সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকা থেকে বিয়ের জন্য ৪৭ জন বরযাত্রী নিয়ে বগুড়া শহরের সাবগ্রামের চারমাথা এলাকায় যাই। বিয়ের কাজ শেষে বর-কনেসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কলীতলা ঘাট থেকে মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হই। বরযাত্রী বহনকারী নৌকাটি যমুনার মাঝ নদীতে পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝি পথ হারিয়ে ফেলে। রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কুয়াশার মধ্যে পথ খোঁজে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এ কল দিলেও ঘন কুয়াশার কারণে কোনো সাহায্য পাইনি। পরে কোনো উপায় না পেয়ে যমুনার মাঝ নদীতেই নোঙ্গর করে রাতভর অবস্থান করে নৌকাটি।
বরের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, শীতের এই দীর্ঘ রাত জীবনের এক স্মরণীয় ঘটনা হয়ে থাকবে। কুয়াশার মধ্যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। শিশু বাচ্চা নিয়ে অনেক কষ্টে রাত পার করেছি। আমরা সবাই সুস্থভাবে ফিরতে পেরেছি।
বরযাত্রী আক্তারুজ্জামান বলেন, সারারাত খুব কষ্টে কেটেছে। একদিকে শীতের তীব্রতা। অন্যদিকে নিরাপত্তার ভয়। ছোট বাচ্চা ও মেয়ে মানুষ নিয়ে অনেক কষ্টে রাত পার করেছি। মোবাইলের চার্জও শেষ হয়ে গিয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহায়তা পাইনি। সকালে মাছ ধরার একটি নৌকা দিয়ে কিছু দূর এসেছি। পরে ঘাট থেকে আমাদের পারিবারের লোকজন নৌকা পাঠায়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে নিলয় হাসান ছানির (২০) বিয়ে উপলক্ষে ৪৭ জন বরযাত্রী বগুড়া শহরের সাবগ্রামের চারমাথা এলাকায় যায়। বিয়ের কাজ শেষে বর-কনেসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কলীতলা ঘাট থেকে মাদারগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বরযাত্রী বহনকারী নৌকাটি যমুনার মাঝ নদীতে পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝি পথ হারিয়ে ফেলে। নৌকায় বর-কনে ছাড়াও ১৭ জন নারী, ৯ জন শিশুসহ ৪৭ জন যাত্রী ছিল। তাদের মধ্যে ৪ জন শিশুর বয়স ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে ছিল।
