জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপনে নাগরিকদের চীনে যেতে মানা করল তাইওয়ান
অনলাইন ডেস্ক
চীনের শেষ রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়েছিলেন তিনি। তাইওয়ান এবং চীন—উভয় দেশই তাকে বীরের মর্যাদা দেয়। কিন্তু সেই মহান বিপ্লবী নেতা সান ইয়াৎ-সেনের জন্মবার্ষিকী ঘিরেই এবার দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আগামী মাসে চীনে আয়োজিত সান ইয়াৎ-সেনের জন্মবার্ষিকীর কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না দিতে নিজেদের নাগরিকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছে তাইওয়ান সরকার।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের মূল ভূখণ্ড বিষয়ক কাউন্সিল (মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল) এই নির্দেশ দেয়। কাউন্সিল জানায়, নাগরিকদের চীনে গিয়ে কমিউনিস্টদের মনগড়া কথায় কান দেওয়া উচিত নয়। তাদের অভিযোগ, চীন সান ইয়াৎ-সেনের ইতিহাসকে বিকৃত করে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে। মূলত ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা এবং একত্রীকরণ’ নীতি প্রচারের জন্যই এই জন্মবার্ষিকীকে হাতিয়ার করছে বেইজিং।
১৯১১ সালে সান ইয়াৎ-সেনের নেতৃত্বেই চীনে শত শত বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। এরপর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘রিপাবলিক অব চায়না’। ১৯২৫ সালে তিনি মারা যান। তবে ১৯৪৯ সালে মাও সেতুংয়ের কমিউনিস্টদের কাছে গৃহযুদ্ধে হেরে এই ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকার তাইওয়ানে পালিয়ে যায়। আজও তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক নাম এটিই।
আগামী ১২ নভেম্বর সান ইয়াৎ-সেনের ১৬০তম জন্মবার্ষিকী। এ উপলক্ষে চীন বড় ধরনের অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এ বিষয়ে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তরও কোনো মন্তব্য করেনি।
চীনের চোখে সান ইয়াৎ-সেন একজন মহান জাতীয় বীর, দেশপ্রেমিক এবং ১৯৪৯ সালের বিপ্লবের অগ্রদূত। এর আগে ২০১৬ সালে এক ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছিলেন, সান ইয়াৎ-সেন সবসময় দেশভাগের চেষ্টার বিরোধিতা করতেন। তাই মাতৃভূমির ‘সম্পূর্ণ একত্রীকরণ’ সব চীনা নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। প্রসঙ্গত, তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের পথও খোলা রেখেছে বেইজিং।
অন্যদিকে, তাইওয়ানে সান ইয়াৎ-সেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতির পিতা’ বলা হয়। দেশটির প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আজও তার প্রতিকৃতি ঝোলানো থাকে। যদিও তার রাজনৈতিক দর্শন ‘থ্রি প্রিন্সিপালস অব দ্য পিপল’ (জনগণের তিন নীতি) এখন আর শিশুদের জন্য বাধ্যতামূলক পাঠ্য নয়।
বর্তমান তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে এবং তার ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি চীনের চেয়ে তাইওয়ানের আলাদা পরিচয়ের ওপরই বেশি জোর দেয়। তবে ‘রিপাবলিক অব চায়না’র ভূমিকা নিয়ে বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে তারা বেশ কড়া অবস্থান নিয়েছেন। বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিজয়ের কৃতিত্ব বেইজিং দাবি করায় ক্ষুব্ধ তাইপে। তাইওয়ান মনে করিয়ে দিয়েছে, মিত্রবাহিনীর সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ‘রিপাবলিক অব চায়না’ সরকারই লড়াই করেছিল; কারণ তখন ‘পিপলস রিপাবলিক অব চায়না’ বা বর্তমান চীনের কোনো অস্তিত্বই ছিল না।
চীন বরাবরই প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তেকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে তার সঙ্গে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। তবে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের সাফ কথা— তাইওয়ানের ভবিষ্যৎ কেবল তাইওয়ানের জনগণই নির্ধারণ করবে।
