জাপানে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাপানে অবস্থানরত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টোকিও দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার সফরের দ্বিতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার অত্যন্ত ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। এদিন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক সামিট বৈঠক, গার্ড অব অনার গ্রহণ, যৌথ প্রেস ব্রিফিং এবং মধ্যাহ্নভোজসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে।

সামিট বৈঠকের প্রধান অর্জন ও আলোচনা তুলে ধরে হুমায়ূন কবির বলেন, জাপানের প্রাইভেট সেক্টর থেকে বাংলাদেশে প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি তথা বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন ও কার্যকর করার বিষয়ে দুই শীর্ষ নেতা একমত হয়েছেন।

তিনি বলেন, কোভিড মহামারি ও বৈশ্বিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব এবং বিগত সরকারের ১৫ বছরের দুর্নীতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে ৩ বছরের অতিরিক্ত সময়সীমা বা এক্সটেনশন চেয়েছে, যা জাপান সরকার ইতিবাচকভাবে অনুধাবন করছে।

তিনি আরও বলেন, জাপানি অর্থায়নে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষ করে এনার্জি বা জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সিটি (টেক সিটি) গড়ে তোলা এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবস্থাপনার মতো প্রকল্পগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যৌথ মিনিস্ট্রিয়াল কমিটি ও নিয়মিত প্রোগ্রেস রিভিউ মেকানিজম চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাপানি বিশেষ দূতের ভূমিকা এবং জাপানের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাসের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যান্য কর্মসূচি ও শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনের বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, সামিট ও যৌথ প্রেস কনফারেন্সের পর জাপানি প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অফিশিয়াল মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি জাপানের একটি এলএনজি টার্মিনাল এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ লজিস্টিকস হাব চিবা লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেন। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে এলএনজি টার্মিনাল ও আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এসব অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাপানের জব মার্কেটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের টিকে থাকা এবং ভাষা সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও জাপানি ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে কোনো চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ূন কবির বলেন, আজকের বৈঠকে মূলত নীতিগত ও কৌশলগত আলোচনা হয়েছে এবং এ বিষয়ে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক আপডেট পরবর্তীতে জানানো হবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights