জোঁক বিক্রি করে চলে নওগাঁর মানিক মন্ডলের সংসার

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ

১০-১২ বছর আগে নওগাঁর খাল-বিল থেকে জোঁক ধরে এনে লালনপালন শুরু করেন রানীনগরের কাশিমপুর স্কুলপাড়া গ্রামের মানিক মন্ডল। তার সংগ্রহে বর্তমানে ১০০টি জোঁক রয়েছে। বর্ষাকালে সেটি বেড়ে ২ থেকে আড়াই হাজারে পৌঁছে। যার একেকটির ওজন হয় প্রায় ১৫০-২০০ গ্রাম। তিনি একেকটি জোঁক ৮০০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি করে থাকেন। তার কাছ থেকে কিনে নিয়ে যান বিভিন্ন কবিরাজ ও বিউটি পারলারের লোকজন। এর তেল শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং জীবিত অবস্থায় নানা চর্মরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়ে থাকে। তিনি বলেন, তার ছয় বছরের শিশুকন্যা সাদিয়াকে শিখিয়েছেন জোঁককে রক্ত খাওয়ানো, খেলা করা, সময় সময় জোঁকের পানি পরিষ্কারের কাজ। তিনি আরও বলেন, জোঁকগুলো বালতিতে রেখে এলাকার কসাইয়ের কাছ থেকে গরু ও ছাগলের রক্ত কিনে আনেন। এরপর বাড়িতে এ রক্ত প্রায় ঘণ্টাখানেক পাত্রে রাখলে জমাট বেঁধে যায়। পরে জমাট বাঁধা রক্ত বালতিতে দিলেই চুষে চুষে খেয়ে নেয় জোঁক। এভাবে ১৫-২০ দিন পরপর রক্ত খাওয়াতে হয়। তবে জোঁক চাষে তেমন কোনো পরিশ্রম বা বাড়তি খরচ নেই। এখানে নেই কোনো ওষুধের ঝামেলা। ফলে খুব অল্প পরিমাণ টাকায় কেনা জোঁক এক থেকে দুই বছরের মধ্যেই প্রতিটির ওজন ১৫০-২০০ গ্রাম করা যায়।

মানিক মন্ডলের ভাষ্যমতে, ১ কেজি জোঁক দেড় বছর লালনপালন করতে সাকুল্যে ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হয়। বিক্রি করা যায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। জোঁক এবং জোঁকের তেল বিক্রি করেই চলে তার চার সদস্যের সংসার।

রানীনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, জোঁকের প্রজনন মূলত প্রাকৃতিকভাবে হয়ে থাকে। এই প্রথম মানিক মন্ডল বাড়িতে জোঁক লালনপালন করছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights