ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য জামায়াত নেতার, বিক্ষোভে উত্তাল ঢাবি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসান। তিনি ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলে উল্লেখ করেন। তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদে কুশপুত্তুলিকা দাহ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ডাকসু।

রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তুলিকা দাহ করেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ডাকসুর সদস্য হেমা চাকমা বলেন, ডাকসু নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা প্রকাশ্যে এ ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে পারেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা এখন ২০২৬ সালে বসবাস করছি। নারীরা নিজেদের অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি নিয়ে সচেতন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সংগ্রাম করে নারীরা আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। সেই শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জামায়াত নেতা শামীম আহসানের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের জিএস সাদমান আব্দুল্লাহ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ভাষা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধসহ বহু ঐতিহাসিক ঘটনা। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কোনো ধরনের অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য আমরা মেনে নেব না।

ডাকসু ভবন ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম ও ঐতিহ্যকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানায় এবং সবাইকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করে।

এ বিষয়ে ডাকসুও নিন্দা জানিয়েছে। ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ এক বিবৃতিতে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসুকে ‘মাদকের আড্ডাখানা ও বেশ্যাখানা’ বলার মতো ঘৃণ্য বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।

তিনি আরও বলেন, এটা সত্য যে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশে বহিরাগতদের পরিচালিত কিছু মাদক ও পতিতা সিন্ডিকেট শনাক্ত করে পুলিশের সহায়তায় ব্যবস্থা নিয়েছেন। তবে সে কারণ দেখিয়ে ঢালাওভাবে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এভাবে হেয় করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি অবিলম্বে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে শামীম আহসানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মানহানির মামলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights