তবিবুর তালুকদারকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত দপ্তর ও মন্ত্রণালয়
বিশেষ প্রতিনিধি
বর্তমান সরকারের সবচেয়ে আলোচিত দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তবিবুর রহমান তালুকদারকে ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দপ্তর ও মন্ত্রণালয়। বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত ১ হাজার ৮৮২ কোটি টাকার ‘মানবসম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি প্রকল্প’র তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন তিনি।
ওই প্রকল্পে দুর্নীতি, অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠলেও সম্প্রতি তাকে আরও একটি নতুন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যার বাজেট প্রায় ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ফলে মোট ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকার দুই প্রকল্প এখন একই ব্যক্তির হাতে, যা নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা।
মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে-কেন এত বিতর্কের মধ্যেও তবিবুর রহমানকে এত বড় দায়িত্ব দেওয়া হলো?
সূত্র বলছে, তিনি নিজেই ঘনিষ্ঠদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, প্রথম প্রকল্পের পরিচালক পদ পেতে তাকে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। তাই তার দপ্তরের সকল কর্মচারী কর্মকর্তারা তাকে মিস্টার ১০ কোটি তবিবুর নামে ডাকে।
কিছুদিন আগে প্রধান প্রকৌশলীর পদে বসার জন্য অনেক চেষ্টা তদবির করে একজন তদবিরকারককে ২০ কোটি টাকা দিয়ে গচ্চা খেয়েছেন। কারণ তিনি ওই পদে বসতে পারেননি।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীকে নিয়মিত অর্থের বিনিময়ে সন্তুষ্ট রেখে তিনি বর্তমান পদে আসীন আছেন। তার টাকার কাছে সবাই পরাজিত। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা তবিবুরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সকল জাতীয় গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পরও এখনো বহাল তবিয়তে বীরদর্পে অফিস করে চলছেন সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে তবিবুরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন টেন্ডারে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন, কাজ শেষ হওয়ার আগেই বিল ছাড় দিয়েছেন এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে নিয়মিত কমিশন নিয়েছেন। প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তার প্রভাবের কারণে অনেক সময় কাজের মান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারেননি।
‘গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্প’র বাজেট ১ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। দেশের দুর্গম এলাকায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ২ লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি টুইনপিট ল্যাট্রিন ও প্রায় ২ হাজার কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রকল্পটিতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পের ব্যয়ের হিসাব প্রয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি, যা অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ।
তবিবুর রহমানকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল ধরেননি। কিছুক্ষণেই মধ্যেই একজন দালাল সাংবাদিক নিজেকে সাংবাদিক নেতা পরিচয় দিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
স্থানীয় সরকার বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, ডিপিএইচই থেকে প্রস্তাবিত নামগুলোর মধ্য থেকে কমিটি বিবেচনা করে যাকে উপযুক্ত মনে করেছে, তাকেই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের তাড়াহুড়োর কারণে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হয়। তার অতীত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত জানা ছিল না।
তিনি আরও জানান, দুদক থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকৌশলী তবিবুর রহমান তালুকদার আওয়ামী শাসনামলে আলোচিত ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া তদন্ত ও নতুন পদে নিয়োগ-উভয় বিষয়ই এখন প্রশাসনিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
