তিন নদীর ছোবলেই ছোট হচ্ছে ফরিদপুরের মানচিত্র
কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর
ফরিদপুরের বুক চিড়ে প্রবাহিত তিনটি নদী পদ্মা, মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁ। ফরিদপুর জেলার ৯টি উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা বেষ্টিত এ নদীগুলোতে। যদিও আরও কয়েকটি ছোট নদী আছে। তবে পদ্মা, মধুমতী ও আড়িয়াল খাঁর তীব্র ভাঙনে প্রতি বছরই পাল্টে যাচ্ছে ফরিদপুরের বিস্তীর্ণ এলাকার মানচিত্র। কোথাও কোথাও বর্ষা মৌসুমে নদীর দুই পার এত পরিমাণ ভাঙে যে নদী চওড়া হয় আর ভূমি কমে যায়। ফলে প্রতি বছরেই পরিবর্তন হয়। সমতল হয় ছোট। ছোট হয় মানচিত্র। নদীর এই ভয়াল তাণ্ডবে দিশাহারা নদীপারের হাজারো মানুষ।
এ বছরও এ তিন নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে ফরিদপুরের পাঁচটি উপজেলায়। বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। বাস্তুহারা হচ্ছে হাজারো মানুষ। বসতভিটা, জমি হারিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়ছে নদী তীরবর্তী এলাকার শত শত পরিবার।
সরেজমিন দেখা গেছে, পদ্মার ভাঙনে ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল, ডিক্রিরচর, চরভদ্রাসন উপজেলার চরহরিরামপুর ও সদর ইউনিয়ন, আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে সদরপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন এবং মধুমতী নদীর ভাঙনে আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলীন হয়েছে। ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় আরও বেশ কিছু এলাকা রয়েছে হুমকির মুখে। বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ভাঙনের কারণে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি। দেখতে দেখতে চোখের সামনে বিলীন হচ্ছে বাপদাদার ভিটা, মসজিদ-মন্দির, বিদ্যালয়, বাজার। কিন্তু কিছুই করার থাকছে না। ভাঙনে দিশাহারা হয়ে নদীর তীরে চলছে কান্নার রোল।
জেলার মধ্যে নদীভাঙনের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। মধুমতী নদীর অব্যাহত ভাঙনে টগরবন্দ, গোপালপুর, বুড়াইচ, বানা ও পাচুড়িয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে প্রায় ৩০ একর ফসলি জমি ও শতাধিক বসতভিটা। বিশেষ করে চাপুলিয়া আশ্রয়ণকেন্দ্রের ঘরগুলো নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় গৃহহীন হয়ে পড়া পরিবারগুলো বর্তমানে মাথার ওপর পলিথিন টাঙিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে চরখোলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল-হেরা দাখিল মাদ্রাসা, মোকছেদ মোল্লা এতিমখানা মাদ্রাসা ও একটি পোস্ট অফিস। নদীভাঙন পরিস্থিতির বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন জানান, বেশ কয়েকটি এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার পর দ্রুত সেখানে বালুর বস্তা ফেলা হচ্ছে।
