তীব্র শীতে কুড়িগ্রামে জনজীবন স্থবির

কুড়িগ্রামে মাঘ মাসের শীতের প্রচণ্ড ঠান্ডায় নাকাল অবস্থা জেলার মানুষের। বিপাকে পড়েছেন কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষেরা। আজ সোমবার সকাল ৯টায় রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার অফিস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলায় গত এক সপ্তাহ ধরে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। তীব্র শীত উপেক্ষা করে অনেকেই কর্মস্থলে ও বিভিন্ন কাজে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থবির জনজীবন। শীতে সকালে ঘর থেকে বের হলে হাত পা অসাড় হয়ে যাচ্ছিল অনেকের।

সোমবার সকাল সাড়ে ১১টার পর সূর্যের মুখ দেখা যায়। কিন্তু রোদের উত্তাপ তেমন না থাকায় জনমনে স্বস্তি ফেরেনি। বিকেলের পর সূর্যালোক চলে গিয়ে আবারো তাপমাত্রা কমতে থাকে। ফলে ঠান্ডার প্রকোপ বাড়তে থাকে। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে শীতজনিত সর্দি-কাঁশিসহ ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়া রোগীর চাপ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার জেনারেল হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৪৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। আর শ্বাসজনিত নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে ১৩ শিশু।

এদিকে, তীব্র ঠান্ডা উপেক্ষা করে এখন শুরু হয়েছে বোরো আবাদ। দুপুরের পর পানিতে নেমে জমি তৈরি করছেন অনেক কৃষক। অতিরিক্ত ঠান্ডায় বিলম্বিত হচ্ছে বোরো রোপণের কাজ। অতিরিক্ত ঠান্ডায় শ্রমিকরা দীর্ঘক্ষণ পানিতে অবস্থান করতে পারছে না। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এখানকার কৃষকরা।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিপ্লব কুমার মোহন্ত জানান, চলতি বোরো মৌসুমে ৫ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে বোরো বীজতলা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে তা ৬ হাজার ২০০ হেক্টরে পৌঁছায়। কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে যাতে বীজতলা নষ্ট না হয়। সে অনুযায়ী শীতে কুয়াশা সরিয়ে নেয়া ও প্রয়োজনীয় পানি দেয়া তারা অব্যাহত রেখেছেন। তারপরও যদি কিছুটা ক্ষতি হয় তা বোরো আবাদে সমস্যা হবে না।

এদিকে, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা নামলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফের খুলে দেয়া হয়েছে। এ কারণে জেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মৃদু শৈত্য প্রবাহেও ক্লাস শুরু করে প্রতিষ্ঠানগুলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights