নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসার কর্মচারী নিয়োগে ১৬ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী (অফিস সহায়ক) নিয়োগে অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ১৬ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাতিল এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অভিযোগটি দেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মাদ্রাসার বিদ্যমান ব্যবস্থাপনা কমিটি পুনর্গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এরপরও নিয়ম অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে গোপনে অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি এবং যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী ও সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ভুয়া কার্যবিবরণী তৈরি করেন। ওই কার্যবিবরণীতে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া প্রার্থী মো. নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিল ওরফে জামাদারের কাছ থেকে গোপনে ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সুপারিনটেনডেন্ট খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকী মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে এর আগেও প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে শিক্ষক ও অভিভাবকদের অভিযোগ। এসব অভিযোগের স্বাধীন তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আমাদের স্বাক্ষর জাল করে এই ভুয়া নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই অবৈধ নিয়োগ বাতিল এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, অভিযোগ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান ছিদ্দিকীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অন্যদিকে মাদ্রাসার সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ২৬ সেপ্টেম্বর নিয়োগ দেওয়ার সময় মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধি, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, অভিভাবক সদস্য, সুপারিনটেনডেন্ট ও তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগকারীরা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত নিয়োগের ভিত্তিতে কোনো এমপিওভুক্তি, বেতন-ভাতা বা সরকারি আর্থিক সুবিধা না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
দ্রুত তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এলাকায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
