পরিচয় দিতেন মেডিসিন-চর্ম-যৌন বিশেষজ্ঞ, রোগীপ্রতি নিতেন ৫০০ টাকা; তিনি আসলে ‘ভুয়া’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশালের বাবুগঞ্জে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগে মো. আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বরিশালের বাবুগঞ্জে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে চিকিৎসক পরিচয়ে রোগী দেখার অভিযোগে মো. আলীমুল ইসলাম (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার রাতে উপজেলার কলেজ গেট এলাকার এমএনএস ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে এ দণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ উঠেছে, বাবুগঞ্জে জরিমানার মুখে পড়া এই ব্যক্তি উজিরপুরের হারতা বাজারেও দীর্ঘদিন ধরে রোগী দেখে আসছেন। সেখানে রোগীপ্রতি ৫০০ টাকা ফি নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।
আলীমুল ইসলাম বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট এলাকার আব্দুল আলী হাওলাদারের ছেলে। তাঁর প্রেসক্রিপশনে এমবিইএইচ (ভারত), ডিএমএফ (ঢাকা) এবং কলকাতার এনআরএস মেডিকেল কলেজে প্রশিক্ষণ নেয়ার কথা উল্লেখ ছিল। নিজেকে মেডিসিন, চর্ম, যৌন ও অ্যালার্জি রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবেও পরিচয় দিতেন তিনি।
বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমাউল হুসনা জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার রাত ৮টার দিকে এমএনএস ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় আলীমুল ইসলামের কাগজপত্র যাচাই করে তাঁর দাবিকৃত ডিগ্রিগুলোর বৈধতা পাওয়া যায়নি। অপরাধ স্বীকার করায় তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে চিকিৎসাসংক্রান্ত কোনো কার্যক্রমে যুক্ত না হওয়ার শর্তে তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়নি।
অভিযানে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) তামিম মল্লিক ও মেডিকেল অফিসার তূর্য অধিকারী উপস্থিত ছিলেন। তূর্য অধিকারী জানান, অভিযুক্তের দেখানো কাগজপত্র ও ডিগ্রিগুলো যাচাই করে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়েছে।
স্থানীয় এক রোগীর স্বজনের অভিযোগ, আলীমুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুরের হারতা বাজারের প্যারেন্টর্স ফার্মেসিতে বসে রোগী দেখছেন। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে ফ্যাটি লিভার ও হৃদরোগের মতো জটিল রোগ শনাক্ত এবং চিকিৎসা দেওয়ার দাবি করতেন তিনি। রোগীপ্রতি ৫০০ টাকা ফি নেয়া হতো বলেও অভিযোগ করেন ওই স্বজন।
বাবুগঞ্জের ইউএনও বলেন, বিষয়টি উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হবে, যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্য কোথাও গিয়ে একইভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে না পারেন।
