প্রথম দিন মুখোমুখি বাংলাদেশ-ভুটান

রাশেদুর রহমান

দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে ‘বিশ্বকাপ’ হিসেবে পরিচিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হচ্ছে আজ থেকে। ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলা সাড়ে ৩টায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে এ টুর্নামেন্ট। স্বাগতিক বাংলাদেশ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ভুটানের (রাত ৮টায়)। ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ বরাবরই ফেবারিট হিসেবে ফুটবল খেলে। ১৩ বার এই প্রতিপক্ষকে হারিয়েছে লাল-সবুজের জার্সিধারীরা। হেরেছে মাত্র ২ বার। আজও ভুটানকে হারানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। কোচ থমাস ডুলি এবং তারকা ফুটবলার তপু বর্মণ তেমনটাই বললেন জোর গলায়। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের প্রধান তারকা হামজা চৌধুরী খেলতে পারছেন না। তাকে দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে পাওয়া যাবে। তবে হামজা আসার আগেই কাজটা সহজ করে নিতে চায় বাংলাদেশ। ভুটানের বিপক্ষে জয় মানেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত। এরপর বাকি থাকবে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচের হিসেব পরে হামজাকে নিয়ে কষতে চায় বাংলাদেশ।

ফুটবলারদের নিয়ে ক্যাম্প করলেও কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে আসিয়ান কাপের ম্যাচগুলোকেই প্রস্তুতি হিসেবে নিয়েছেন কোচ ডুলি। তিনি বলেছেন, ‘আসিয়ান কাপে আমাদের যে ভুলগুলো ছিল, সেগুলো ঠিক করার কাজই করেছি আমরা।’ দল এখন পূর্ণ প্রস্তুত বলেও দাবি করেছেন কোচ। ২০০৩ সালে শেষবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করেছিল বাংলাদেশ। এরপর একবার ফাইনাল খেললেও আর শিরোপা জিততে পারেনি। দীর্ঘদিনের আক্ষেপ এবার ঘুচিয়ে নিতে চায় ফুটবলাররা। সমর্থকদের উপহার দিতে চায় সাফ ট্রফি। বাংলাদেশ ১১ জন প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে দল গড়েছে। অন্যদিকে ভুটানের এই সুযোগ নেই। দলটির অধিনায়ক চেনচো গর্বের সঙ্গেই বললেন, আমাদের দলে শতভাগ ভুটানিজ।

কেবল বাংলাদেশের কোচ আর ফুটবলাররাই নয়, এবার সাফে অন্যরাও তপুদের শীর্ষ ফেবারিট মানছেন। শ্রীলঙ্কার কোচ আবদুল্লাহ আল মুতাইরি বলেছেন, ‘আমার কাছে শীর্ষ ফেবারিট হলো বাংলাদেশ। তাদের অসাধারণ কিছু ফুটবলার আছে। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে খেলছে। বিশেষ করে এই দলে হামজার মতো ফুটবলার আছে। এরপর ভারত ও পাকিস্তানকেও ফেবারিট মনে করি আমি।’

এদিকে আজ দিনের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে ভারত-পাকিস্তান। ক্রিকেটে দুই দলের লড়াই সমানে সমানে চললেও ফুটবলে চিত্রটা ভিন্ন। ভারতের একক আধিপত্য ফুটবল মাঠে। পাকিস্তান শেষবার ভারতকে ফুটবল মাঠে হারিয়েছে ২০০৫ সালে। গত ২১ বছর ধরে প্রতিবারই ফুটবল মাঠে ভারতের কাছে হেরেছে পাকিস্তান। এবার কী চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে? ভারত এবারও টুর্নামেন্ট জয়ের জন্যই এসেছে বলে জানিয়েছেন কোচ নওসাদ মুসা। যদিও তারা দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানও পূর্ণ শক্তি নিয়ে আসেনি। তারা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেই কেবল বাকিরা দলে যোগ দিবেন। বিশেষ করে আলি আকবর খানরা এলে পাকিস্তান আরও বেশি শক্তিশালী দল হয়ে উঠবে। ভারতের বিপক্ষে আজ গ্যালারিতে বাংলাদেশের মানুষের কাছ থেকে সমর্থন আশা করেছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক আলমগীর। অন্যদিকে ভারত তাদের দ্বিতীয় সারির দল নিয়েও প্রতিটা ম্যাচ জয় করতে চায় বলে জানিয়েছে।

পাকিস্তান ১৯ জন প্রবাসী ফুটবলার নিয়ে মাঠে নামবে। অন্যদিকে ভারতে এই সুযোগ নেই। তাদের দেশে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ নেই। তবে প্রবাসী ফুটবলারদের নিয়েও কি ভারতের বিপক্ষে লড়াইয়ে টিকতে পারবে পাকিস্তান? গত ২১ বছরের ইতিহাসের গতিপথ কি বদলাবে এবার?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights