বিএনপির আয় বেড়েছে ভোটের বছরে, ব্যয়ও বেড়েছে তিন গুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গতকাল নির্বাচন কমিশনে ২০২৫ পঞ্জিকা বছরের আর্থিক বিবরণী জমা দিয়েছেন। সেই বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, গতবারের তুলনায় ভোটের বছরে বিএনপির আয় বেড়েছে। পাশাপাশি একই সময়ে ব্যয়ও বেড়ে তিনগুণ হয়েছে। ২০২৫ সালে বিএনপির আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লাখ ৫৫ হাজার ১৮২ টাকা। আর ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে আগের স্থিতিসহ জমা আছে ২৮ কোটি টাকার বেশি।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ইসিতে জমা দিতে হয়। পর পর তিন বছর দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলেরও বিধান রয়েছে। বিধি মেনে গতকাল ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে আর্থিক বিবরণী জমা দেয় বিএনপি। এ সময় রিজভী আহমদের সঙ্গে আরও ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ এবং সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সহ-দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন। ইসিতে অডিট রিপোর্টসহ আর্থিক বিবরণী জমা দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গণতান্ত্রিক দেশে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেওয়া উচিত। জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাজনৈতিক দলের পরিচালনা, আয়ের উৎস এবং ব্যয় কী হয়েছে, তা জনগণকে জানানো উচিত। সব প্রক্রিয়া অবলম্বন করেই হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে।

আর্থিক বিবরণীর তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালে বিএনপি আয় দেখিয়েছিল ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা; ব্যয় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২০ টাকা। এ বছরের ফেব্রুয়ারতি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসন জিতে সরকার গঠন করে বিএনপি। সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাক্সক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখিয়েছে বিএনপি। এ ছাড়া দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতা-কর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কে করবে, না করবে সেটি ইসি ও আদালতের বিষয় : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নির্বাচন কে করবে, না কারবে, এটা আদালতের বিষয়, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। অন্য রাজনৈতিক দল কি বলল, না বলল সেটা বিষয় না। এ সময় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আটকাতে ইসিতে চিঠি দিয়েছে জামায়াত উল্লেখ করে এ বিষয়ে বিএনপির অবস্থান কী জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতীকের ভিত্তিতে হচ্ছে না।

সেক্ষেত্রে নির্বাচন কে করবে, না কারবে, এটা আদালতের বিষয়, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। কী আইন আছে- দেখে, সে অনুযায়ী তারা নির্ধারণ করবেন। অন্য রাজনৈতিক দল কী বলল, না বলল সেটা বিষয় না, প্রচলিত আইন ও এখন যে আইন-প্রণয়ন করা হয়েছে, সে আইন অনুযায়ী কারা নির্বাচনে যাবেন, না যাবেন সেটা সম্পূর্ণ দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। আমরা তার কাছে ছেড়ে দিলাম।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, এবার তো দলীয় প্রতীক ছাড়া নির্বাচন হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রার্থিতা কীভাবে হবে তা আমাদের দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জানাবেন। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এ সময় সংবাদিকরা আবারও জানতে চান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থিতা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে কি না? জবাবে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ ব্যাপারে দলীয় নীতির কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলে জানাব। দলের সম্মেলনের বিষয়ে তিনি জানান, সম্মেলনের বিষয়ে দলীয় চেয়ারম্যান ও মহাসচিব কথা বলেছেন। সম্মেলন হবেই। তবে তারিখটা কোন মাসে হবে সে সিদ্ধান্ত হয়নি। আশা করি অতিসত্বর, অতি শিগগিরই সম্মেলন হবে। তারিখ নির্ধারণ হলে আমরা জানিয়ে দেব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights