ব্রাজিলের চেনা রূপে ফেরার ম্যাচ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
দুই শিবিরে ভিন্ন চেহারা। মেসির হ্যাটট্রিকে প্রথম ম্যাচ জিতে উৎসবে মাতোয়ারা আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে চিন্তায় অস্থির ব্রাজিল। শুরুতেই তারা হারতে হারতে বেঁচে গেছে। প্রথম ম্যাচে কোনোক্রমে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করেছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিল কি ফিরবে তাদের চিরচেনা রূপে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ‘সি’ গ্রুপে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ হাইতি। একই দিনে আবার একই গ্রুপে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। তাই দ্বিতীয় ম্যাচেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের বাড়তি ভাবনা নিয়ে নামতে হচ্ছে। হোঁচট খেলেই যে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া নিয়ে শঙ্কায় পড়তে হবে। একটা সুবিধা অবশ্য আছে। কেননা ১২ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন রানার্স আপেরা সরাসরি শীর্ষ ৩২-এ সুযোগ পাবে। বাকি আট দল নকআউট পর্বে আসবে গ্রুপের তৃতীয় সেরা দল হিসেবে।
গ্রুপে তৃতীয় দল হয়ে যদি ব্রাজিল নকআউট পর্বে খেলে তা কি লজ্জা নয়। আসলে হাইতির ম্যাচ নিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের চিন্তা থাকার কথা নয়। ব্রাজিল যেখানে সব বিশ্বকাপই খেলেছে। হাইতি সেখানে ২৮ বছর পর দুনিয়াকাঁপানো আসরে ফিরেছে। প্রত্যাবর্তনের প্রথম
ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে হেরেও গেছে। ব্রাজিলকে তো এমন দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চিরচেনা রূপে ফেরার কথা এবং সহজ জয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারে। না, হলুদ জার্সিধারীরা নির্ভার থাকতে পারছে না। ম্যাচে কী ঘটে বলা যায় না। তা না হলে কেপভার্দে কীভাবে ফেবারিট স্পেনকে রুখে দেয়। পর্তুগালইবা কঙ্গোর সঙ্গে ড্র করবে কেন? শুরুতেই তাই বিশ্বকাপটা ব্রাজিলের কাছে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। মেসির হ্যাটট্রিকে আলজেরিয়াকে হারানোর পর বাংলাদেশে যে ধরনের উৎসব হয়েছে তা আর্জেন্টিনাতেও হয়েছে কি না সন্দেহ রয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল নকআউট পর্ব নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে। ফিলাডেল দিয়ার ম্যাচে হারা মানেই ছিটকে পড়ার উপক্রম। ব্রাজিল সমর্থকরা আশা করছে, হাইতির বিপক্ষে দেখা যাবে চেনা ব্রাজিলকে। তাহলে বড় ব্যবধানেই জেতা সম্ভব। নেইমার দ্বিতীয় ম্যাচেও থাকছেন না তা নিশ্চিত। অনুশীলনে নামলেও তিনি পরোপুরি ফিট নন। ঝুঁকি তো নেওয়া যায় না। ভিনিসিয়া, কাসেমিরো ডানিলো, আলেক্সদের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে ব্রাজিলের ভাগ্য। মরক্কো গতবার সেমিফাইনাল খেলেছে। এদের সঙ্গে ড্র করাটা লজ্জা নয়। এতে ব্রাজিলের মন-মানসিকতাও ভেঙে যাওয়ার কথা নয়। তার পরও প্রশ্ন-ব্রাজিল চেনা রূপে ফিরবে তো?
