ব্রাজিলে লুলার জয়ের নেপথ্যে ‘ডিজিটাল সেনাবাহিনী’!

অনলাইন ডেস্ক

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারোকে হারিয়ে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার বিস্ময়কর প্রত্যাবর্তনের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এক ‘সেনাবাহিনী’।

প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ অনুসারীর এই অনলাইন নেটওয়ার্কের সদস্যরা নির্বাচনের আগে প্রতিদিন প্রচারাভিযানে অংশ নিয়েছেন, ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন এবং লুলার পক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার জোরদার করেছেন।

নির্বাচনে প্রথম দফায় অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের মুখে পড়ার পর নিজের প্রচারকৌশলে বড় পরিবর্তন আনেন লুলা। দীর্ঘদিন স্মার্টফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলা ৮১ বছর বয়সী এই নেতা নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হন। নিজেই ভিডিও ধারণ করে প্রচার শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত ফ্লাভিও বলসোনারোকে ৪৪ লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন তিনি।

লুলার জয়ের পেছনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, রাজপথে ব্যাপক জনসমাগম এবং নির্বাচনের আগে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ভূমিকার কথা বলছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে অনেক বিশ্লেষক ও লুলা নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের নতুন কৌশলকে জয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন।

এই প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল হোয়াটসঅ্যাপের একটি গ্রুপ-‘লুলার আর্মি’। মজার বিষয় হলো, লুলার নির্বাচনী প্রচার দল সরাসরি এই গ্রুপ তৈরি বা পরিচালনা করেনি।

কংগ্রেস সদস্য আন্দ্রে জানোনেসের নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রুপটির অনুসারী প্রথম দফার নির্বাচনের পর মাত্র ৬০ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখে পৌঁছায়।

নির্বাচনের আগের দিনগুলোতে গ্রুপের সদস্যদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হতো। তাদের কাজ ছিল ভোটারদের লুলার পক্ষে আনার চেষ্টা করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সমর্থনে প্রকাশিত পোস্ট ও ভিডিওর প্রচার বাড়ানো।

জানোনেসের ভাষায়, নির্বাচনে তিনটি ক্ষেত্রে লড়াই হয়েছে- প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রাজপথের আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার। প্রথম দুই ক্ষেত্রে লুলা এগিয়ে থাকলেও অনলাইনে পিছিয়ে ছিলেন তিনি। বলসোনারোর সমর্থকদের পোস্টে লুলার তুলনায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বেশি সাড়া পড়ত।

এই পরিস্থিতি বদলাতে সমর্থকদের মধ্যে সমন্বিত প্রচার শুরু করেন জানোনেস। নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে সমর্থকদের ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দলের হলুদ জার্সি পরে আঙুল দিয়ে ইংরেজি ‘এল’ অক্ষরের মতো চিহ্ন তৈরি করে ছবি পোস্ট করতে বলা হয়। এর মাধ্যমে বলসোনারো সমর্থকদের দখলে চলে যাওয়া জাতীয় জার্সিকে আবার লুলার সমর্থনের প্রতীকে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়।

২১ বছর বয়সী তরুণ রাজনীতিক আনা এলিসা সান্তোসও লুলার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কৌশল বদলাতে ভূমিকা রাখেন। প্রথম দফার পর তার একটি ভিডিও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

এতে তিনি বলেন, বামপন্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে আরও দক্ষ হতে হবে। তার পরামর্শেই লুলা নিজে ভিডিও ধারণে আগ্রহী হন বলে জানা গেছে।

গবেষক রাকেল রেকুয়েরোর মতে, এই অনলাইন গ্রুপের বড় সাফল্য ছিল সমর্থকদের মধ্যে ঐক্য ও অংশগ্রহণের অনুভূতি তৈরি করা। তবে নির্বাচনের পরও এই তৎপরতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

জানোনেস অবশ্য মনে করেন, লুলার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রয়োজনে ভবিষ্যতেও এই ‘সেনাবাহিনী’ ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, সরকার পরিচালনায় লুলার সক্ষমতা নিশ্চিত করতেও এই অনলাইন নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights