ভারতে স্টারলিংকের প্রবেশের চেষ্টা, ইলন মাস্কের বিলিয়নিয়ার ইমেজ কাজে আসছে না?

অনলাইন ডেস্ক

উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংকের ভারতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পেতে দেরি হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তবে ভারতের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পরাশক্তি বা বিশ্বখ্যাত কোনো উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত প্রভাবে দেশের সার্বভৌম নিরাপত্তা ও আইনি কাঠামো কোনোভাবেই শিথিল করা হবে না।

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের এই অবস্থানের পেছনে কেবল ব্যবসায়িক স্বার্থ নয় বরং এক ধরনের বিশেষ অধিকারবোধ ফুটে উঠেছে। প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে মাস্ক হয়তো মনে করেছেন যে, উন্নত প্রযুক্তি এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিই তার প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে যথেষ্ট। কিন্তু নয়াদিল্লি এই দাবির সামনে মাথা নত করেনি। ভারতের নিজস্ব আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোনো ব্যক্তি যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, ভারতের নিজস্ব আইন কোনো বিদেশী ধনকুবেরের কথায় পরিবর্তিত হবে না।

ভারতের টেলিকম ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা প্রদান করা হয়েছে। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ভারতে কোনো ধরনের একচ্ছত্র আধিপত্য বরদাশত করা হবে না। উপগ্রহ যোগাযোগের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীনভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। স্টারলিংকের পাশাপাশি রিলায়েন্স জিও এবং ভারতী সমর্থিত ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েবের মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও একই নিরাপত্তামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই স্পেকট্রাম বরাদ্দ করার আগে প্রতিটি কোম্পানির নিরাপত্তা মূল্যায়ন সম্পন্ন করা ভারতের জন্য অত্যন্ত মৌলিক দায়িত্ব।

উপগ্রহভিত্তিক যোগাযোগ কেবল একটি সাধারণ বাণিজ্যিক ক্ষেত্র নয়; এর সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় জড়িত। বিশেষ করে মণিপুর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের স্পর্শকাতর এলাকায় কিছু অননুমোদিত স্টারলিংক টার্মিনাল উদ্ধারের খবর ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা তৈরি করেছে। ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্ব বজায় রাখতে ভারতের সরকার এই বাণিজ্যিক কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি রাখা জরুরি মনে করছে।

ইলন মাস্ক ভারতের বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য দাবি করলেও কোনো সার্বভৌম রাষ্ট্রকে জনসমক্ষে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে সুবিধা আদায় করা সম্ভব নয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈশ্বিক প্রভাব যতোই থাকুক না কেন, তা কোনো দেশের সার্বভৌম ক্ষমতাকে খর্ব করতে পারে না। স্টারলিংক যদি সত্যিই গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলের ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে চায়, তবে তাকে ভারতের নির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। কোন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হবে এবং কোন শর্তে স্পেকট্রাম বরাদ্দ করা হবে, তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের নিজস্ব নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আন্তর্জাতিক মিডিয়া কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার কোনো বিতর্ক বা চাপ এই প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারবে না।

এনডিটিভির নিবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights