যাচাই করলে ৪০০-৫০০টির বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স টিকবে না

অনলাইন ডেস্ক

দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে সার্বিক অর্থনীতিতে অসামান্য অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণে বর্তমান সরকার বহুমুখী উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নূরুল হক নুর।

তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু মানসম্মত প্রক্রিয়ায় যাচাই-বাছাই করলে ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি লাইসেন্স টিকবে না। প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এসব এজেন্সির লাইসেন্স মূল্যায়ন করে গ্রেডিং করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধিতে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের আনা একটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রস্তাবটির বিষয় ছিল-দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী রেমিট্যান্সযোদ্ধাদের সমস্যা সমাধান, তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা, রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করা এবং জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাদের অবদান অব্যাহত রাখার উপায় নিয়ে আলোচনা।

বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র পৌনে চার মাস উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এত অল্প সময়ে পুরো অবকাঠামো পরিবর্তন সম্ভব না হলেও, সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু দৃশ্যমান উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য পেমেন্ট গেটওয়ে-সংযুক্ত ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের জন্য বিদ্যমান একটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় অনুমোদন দিয়েছে। এ কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে অর্থ পাঠালে তাদের পরিবার বা মনোনীত প্রতিনিধিরা নিরাপদে সেই অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, প্রবাসীদের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে পূর্বাচল থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে জেলা পর্যায়ে ‘প্রবাসী সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি রাজধানীর গুলশানে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিজস্ব জায়গায় প্রবাসীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা স্বল্প খরচে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের বিভিন্ন সেবার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী ও প্রতিবন্ধী সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, মৃত কর্মীর মরদেহ দেশে আনা, দাফন ব্যয় এবং পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থান সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

প্রবাসীদের বিমানবন্দরে হয়রানি ও সেবার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিদেশে চাকরিচ্যুত বা নির্যাতনের শিকার প্রবাসীদের আইনি সহায়তা দিতে ১০টি দেশের আইন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।

নারী কর্মীদের সুরক্ষায় জেদ্দা, রিয়াদ ও ওমানে তিনটি সেফ হোম পরিচালনা করা হচ্ছে। তাৎক্ষণিক সহায়তার জন্য টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৬১৩৫ চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।

দূতাবাসগুলোর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী কমিউনিটির সঙ্গে দূতাবাসগুলোর সম্পৃক্ততা এবং দক্ষ জনশক্তির জন্য ‘হোয়াইট-কলার’ চাকরির সুযোগ তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূতদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন শ্রমবাজার সম্প্রসারণের কাজ চলছে। জাপানের শ্রমবাজার ধরতে মন্ত্রণালয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এসব বাজার আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেন, বাজারটি মাঝেমধ্যে চালু ও বন্ধ হওয়ার চক্রে পড়ে। বর্তমানে এটি বন্ধ রয়েছে। সিন্ডিকেটের বিষয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালের সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী বাংলাদেশ শ্রমিকের তালিকা পাঠালেও রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করে মালয়েশিয়া সরকার।

দেশে প্রায় ৩ হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আবারও বলেন, মানসম্মত যাচাই প্রক্রিয়ায় ৪০০ থেকে ৫০০টির বেশি লাইসেন্স টিকবে না। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের গ্রেডিং চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে অভিবাসন খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং প্রবাসীদের নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights