যুদ্ধ থেকে ফিরতে চায় ইয়েমেনের হুতিরাও: এলো নতুন বার্তা

অনলাইন ডেস্ক

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, গাজার ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ হলে তারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে। হুতিদের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি এ বিষয়ে এক বার্তায় জানিয়েছেন।

এক্স প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে আল-বুখাইতি লিখেছেন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটাবে, তবে এটি সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ করবে না।

মোহাম্মদ আল-বুখাইতি বলেন, গাজায় হুতিদের ভূমিকা কার্যকর ছিল। এটি শত্রু এবং তার মিত্রদের চাপের মুখে ফেলেছে এবং তাদের অনেক ক্ষতি করতে বাধ্য করেছে। তাই আমরা মনে করি, বিভিন্ন উপায়ে ইসরায়েল শত্রুতা অব্যাহত রাখবে। তবে ফিলিস্তিনে আগ্রাসন বন্ধ হলেই কেবল ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমাদের সামরিক অভিযান স্থগিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নৌচলাচলের স্বাধীনতা সকল দেশের জন্য মৌলিক অধিকার। এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য নির্বাচিত অধিকার হতে পারে না।

২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুতিরা তেল আবিবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। গাজায় ইসরায়েলের নির্মম হামলার প্রতিবাদে তারা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। একই সঙ্গে লোহিত সাগর এবং আদেন উপসাগরে চলাচলকারী পশ্চিমা জাহাজগুলোর ওপর নিয়মিত হামলা চালায়। তাদের দাবি, গাজা নিরাপদ না হলে ইয়েমেন ঘেঁষে কোনো পশ্চিমা জাহাজও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে না।

ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হলেও ইসরায়েলের হামলা বন্ধ হয়নি। গত দুই দিনে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ১১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২৮ শিশু ও ৩১ নারী রয়েছে।

চুক্তির মাধ্যমে গাজার ১৫ মাসের ভয়াবহ সংঘাতের অবসান হতে চলেছে। এই সময়ে প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১০ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা গত ১৭ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুমোদন করে। চুক্তি অনুযায়ী— প্রথম ধাপে গাজা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ধীরে ধীরে প্রত্যাহার করা হবে। হামাসের হাতে আটক ৩৩ জন ইসরায়েলি বন্দি মুক্তি পাবে এবং বিনিময়ে ইসরায়েলের কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিরা মুক্তি পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে প্রথম ধাপের ১৬ দিনের মধ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হবে। তৃতীয় ধাপে মিশর, কাতার এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে গাজার পুনর্গঠন কাজ শুরু হবে। একই সঙ্গে নিহতদের মৃতদেহ ফেরতের বিষয়েও আলোচনা হবে।

এই চুক্তি আগামীকাল রবিবার সকাল থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। তবে গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় এটি বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights