রবি শাস্ত্রীর কণ্ঠে ইমরান খানের প্রতি সহানুভূতি

অনলাইন ডেস্ক

তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দী পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খান। এ সময়ে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি এবং পুর্ণাঙ্গ চিকিৎসার দাবি জানিয়ে আসছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। ৭৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার কারাগারে পূর্ণাঙ্গা চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারছেন এমন সংবাদে ক্রিকেটের বাইরে জগতের অনেকে সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলসহ আরও কয়েকজন সাবেক অধিনায়ক পাকিস্তানের বর্তমান সরকারের কাছে নমনীয় আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। ভারতের সাবেক খেলোয়াড় ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত, নিজের সাবেক সতীর্থের সাথে করা আচরণের জন্য পাকিস্তান সরকারের সমালোচনা করেছেন।

শাস্ত্রী ‘রিপাবলিক ওয়ার্ল্ড’-এর সাথে আলাপকালে বলেন, আমি কোনো রাজনীতিবিদ নই, তবে তার সাথে বর্তমানে যে আচরণ করা হচ্ছে তা সত্যিই মর্মান্তিক। কোনো মানুষের সাথেই এমন আচরণ করা উচিত নয়। তিনি যা ভোগ করছেন, তা তার প্রাপ্য নয়। তিনি আরও বলেন, শুধু আমি নই, বিশ্বের অনেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারেরও একই অনুভূতি। আশা করি তিনি ভালো আছেন এবং তার স্বাস্থ্য ঠিক আছে। গ্রেগ চ্যাপেলের এই উদ্যোগে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও সমর্থন জানিয়েছেন।

শাস্ত্রী বলেন, আশা করি, কারাগার থেকে বেরিয়ে আসার পর ইমরানের সাথে আরও ভালো আচরণ করা হবে। কারাগারে বন্দী থাকাটা তার প্রাপ্য নয়, কারণ বিশ্বজুড়ে তিনি পাকিস্তানের সবচেয়ে পরিচিত মুখ। আপনি পছন্দ করুন বা না করুন, এটাই আমার অভিমত।”

ইংল্যান্ডে যখন ক্রিকেট প্রায় থমকে গিয়েছিল
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ইংল্যান্ড সফরের সময় মাইকেল আথারটন ইমরানের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমানের সাক্ষাৎকার নেন। লর্ডসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন দুপুরের খাবারের বিরতির সময় সেই সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচার করা হয়। জানা যায়, সাক্ষাৎকারটি প্রচারের ঘটনায় পিসিবি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল এবং দুপুরের খাবারের বিরতির পর মাঠে না নামার কথাও বিবেচনা করেছিল।

ইমরান খানের ছেলে কাসিম বলেন, আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কারিগরি কারণে ভিসা আটকে দেওয়া হয়েছে। কোনো না কোনো অজুহাতে তারা আমাদের যেতে দিতে চায় না; হয়তো তাদের ভয়, আমরা তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার প্রচেষ্টায় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারি।

ইমরান খানের দীর্ঘদিনের সতীর্থ জাভেদ মিয়াঁদাদও কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এবং সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসে বিষয়টি সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে মিটিয়ে ফেলার আহ্বান জানান।

কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার বলেন, সে-ও তো কারও না কারও সন্তান। আমি সবসময় তার কথা ভাবি এবং চিন্তা করি সে এখন কী করছে। আমরা একসঙ্গে খেলেছি, একে অপরকে সমর্থন দিয়েছি এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটকে এগিয়ে নিয়ে গেছি। বিষয়টি দুঃখজনক; আমি চাই সে যেসব পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তার যেন সমাধান হয়। সবাই মিলে বসলেই এর সমাধান সম্ভব। এসবের কোনো প্রয়োজন নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights