রমজানে যানজটে নাকাল শহরবাসী

আবদুর রহমান টুলু, বগুড়া

রমজানের শুরু থেকেই বগুড়া শহরে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও সিএনজি চালিক অটোরিকশার কারণে তীব্র যানজটে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। এসব যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও ইফতারের কেনাকাটার চাপে সড়কগুলোয় দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হচ্ছে। যা রোজাদারদের ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে চরম হয়রানি ও ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুতেই থামনো যাচ্ছে না অবৈধ অটোরিকশা ও ইজিবাইকের দৌরাত্ব।

এদিকে যত্রতত্র সিএনজি চালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড বানিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। কখনও রাজনৈতিক পরিচয়ে আবার কখনও স্থানীয় প্রভাব ঘাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে এসব সিএনজি স্ট্র্যান্ড। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব যানবাহনের চালকরা। আইন অমান্য করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

জানা যায়, উত্তরবঙ্গের জেলা শহরের মধ্যে বগুড়া সবচেয়ে বেশি ব্যস্ততম শহর। একই সাথে বাণিজ্যিক শহর বলে প্রতিদিন আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানা কাজে মানুষ বগুড়ায় আসেন। যার ফলে শহরে মানুষের সমাগম বেড়ে যায়। একদিকে যেমন মানুষের সমাগম অন্যদিকে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা। বিশেষ করে রমজান মাসের শুরু থেকে শহরের যানজটের মাত্রা বেড়ে গেছে। প্রতিদিন সকাল থেকে বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানজটের মাত্রা বাড়তে থাকে। স্থবির হয়ে পরে শহরের সড়কগুলো। অবৈধ ইজিবাইক, মোটা চাকার অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহনের দৌরাত্বে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শহরবাসীর। ১০ মিনিটের রাস্তা পোঁছাতে সময় লেগে যাচ্ছে আধাঘণ্টা। এতে করে সিমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নানা কাজে শহরে আসা মানুষের। এছাড়াও ইচ্ছামত যত্রতত্র রিকশা স্ট্যাান্ড ও সিএনজি স্ট্যান্ড বসিয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে। রাজনৈতিক পরিচয়ে আবার কখনও স্থানীয় প্রভাব ঘাটিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছে এসব সিএনজি স্ট্র্যান্ড। অবৈধ এসব যানবাহনের কারণে ট্রাফিক পুলিশের যানজট নিয়ন্ত্রনে যেসব নিয়ম-কানুন দেয়া হয়েছে সেগুলো কাজে আসছে না। ট্রাফিক আইন অমান্য করে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এসব যানবাহন ও চালকরা। এদিকে এই যানজটের মধ্যে সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি ছিলেন কাজ শেষে ঘরে ফেরা রোজাদার মানুষ। একই সাথে অফিসগামী মানুষ, দিনমজুরসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকেই এই যানজট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সবার চেষ্টা ইফতারিতে পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হওয়া। সে কারণেই ইফতারির আগে শহরে তীব্র যানজট তৈরি হয়। প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হয়ে অনেককেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে রাস্তায়। আবার কেউ কেউ যানজটে আটকা পড়ে ইফতার করেছেন সড়কে কিংবা ফুটপাথে।

বগুড়া শহরের সাতমাথায়, থানামোড়, বাদুরতলা, কাঁঠালতলা, ঝাউতলা, ফহেত আলী বাজারের সামনে, বড়গোলা, দত্তবাড়ি, নবাববাড়ী সড়ক, রানা প্লাজার সামনে, জেলা জজ আদালতের সামনে, জলেশ্বরীতলা, ইয়াকুবিয়ার মোড়, পিটিআই মোড়, মোহাম্মদ আলী হাসপাতারের সামনে, কানুছগাড়ী, খান্দার সড়ক, স্টেশন সড়কে যানজট লেগেই থাকে। এছাড়াও বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়ায় অবস্থিত বাসস্ট্যান্ডের কারণে তীব্র যানজটের কবলে নাকাল জেলাবাসী। সড়কের উপর পার্কিং আর ইউটানের কারণে ভয়াবহ যানজট যেন কিছুতেই কমছে না। বাসস্ট্যান্ডের আশপাশে অবস্থিত পপুলার ও ইবনে সিনাসহ বেশ কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে গাড়ি পার্কিং এর কারণে দিনরাত যানজট লেগেই থাকে এই শহরে। ফলে দুর্ঘটনাসহ প্রতিনিয়ত চলাচলে বাড়ছে দুর্ভোগ।

বগুড়া শহরের কলোনী এলাকার ব্যাংকার আনোয়ার হোসেন পলাশ জানান, রমজান এলেই তীব্র যানজটের সমস্যায় পড়তে হয়। অফিস শেষে বাড়িতে গিয়ে ইফতারের ব্যবস্থা করাটা অনেক কঠিন হয়ে যায়। তাই বাড়িতে গিয়ে ইফতার করা যাবে কি না সেটা নিয়ে সন্দেহে অনেকের। কারণ এই শহরে আগের চেয়ে ইজিবাইক ও অটোরিকশার সংখ্যা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে সময় লাগছে দ্বিগুণ।

বগুড়া ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) সালেকুজ্জামান খান জানান, রমজান মাসে মানুষ যেন শহরে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সেজন্য বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। বগুড়া পৌরসভা ও জেলা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে শহরে যানজট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। যানজটের মূল কারণ হচ্ছে অধিক পরিমান অবৈধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা বেড়ে যাওয়া। এছাড়াও শহরের রাস্তার ধারণ ক্ষমতার অধিক যানবাহন চলাচলের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights