লাকসামে ধুলোবালিতে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
লাকসাম প্রতিনিধি:
কুমিল্লার লাকসাম অঞ্চলে শহর ও গ্রামজুড়ে বেড়েছে ধুলোবালির প্রকোপ। এতে জনজীবনে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে বিভিন্ন রোগব্যাধি। ধুলোবালির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পেতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন সড়কে সারাদিন ধুলোবালি উড়তে দেখা যায়। কোথাও কোথাও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যেন কুয়াশাচ্ছন্ন সকালের মতো দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে। দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচলের ফলে ধুলোবালির সঙ্গে মিশে যায় কালো ধোঁয়া। এতে যাত্রী ও পথচারীদের পাশাপাশি সড়কসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারাও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। শুধু সড়ক নয়, হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।
গ্রামীণ এলাকায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে ট্রাক্টরযোগে পরিবহন, বাড়িঘরের নির্মাণকাজ এবং দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ধুলোবালির মাত্রা বেড়েছে। ফলে পুরো এলাকা ধুলায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ধুলোবালির কারণে সব বয়সী মানুষের মধ্যে সর্দি, কাশি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগ বাড়ছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি চর্মরোগ ও কিডনি সমস্যাসহ বিভিন্ন জটিল রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
লাকসামের আল খিদমাহ স্পেশালাইজড ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারের মেডিসিন ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাইদ বিন আনোয়ার বলেন, ধুলোবালি হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের অন্যতম প্রধান উদ্রেককারী। ধুলো শ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয়। অন্যান্য অ্যালার্জেনের তুলনায় ধুলা সহজেই শ্বাসযন্ত্রে প্রবেশ করতে পারে, ফলে দ্রুত সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
তিনি আরও বলেন, ধুলোবালি থেকে সুরক্ষিত থাকতে বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত বাইরে চলাচল না করাই উত্তম।
