লুকে নয়, অভিনয়েই একজন শিল্পীর সার্থকতা

এ প্রজন্মের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। তিনি লুকের পরিবর্তে অভিনয় দক্ষতাকেই প্রাধান্য দেন। আর এ কারণেই দ্রুত লাইমলাইটে চলে এসেছেন বলে ধারণা সবার। অভিনয় ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে নানা সময় তাঁর অনেক কথাই সংবাদ শিরোনাম হয়। এ আলোচনাকে পজিটিভভাবেই গ্রহণ করেন তিনি। এসব বিষয়ে তাঁর বলা কথা তুলে ধরেছেন- আলাউদ্দীন মাজিদ

কেন অভিনয়ই প্রধান-

সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘দেখতে যত সুন্দরই হই না কেন, যখন কেউ অভিনয়ের প্রশংসা করে, ওইটা আমাকে বেশি এনার্জি দেয়। উল্টো যদি আমাকে কখনো বলে যে তোমাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে, তখন আমার জিজ্ঞাসা করতে হয়, অভিনয় কেমন লাগছে? কারণ, ওটাই তো মেইন।’ তিনি মনে করেন, লুকে নয়, অভিনয়েই একজন শিল্পীর সার্থকতা। দর্শক তাঁর সৌন্দর্যের প্রশংসা করলেও ব্যক্তিগতভাবে অভিনয়ের মূল্যায়নকেই এগিয়ে রাখেন তিনি।

সংগ্রাম করতে হয়েছে-

২০১৯ সালে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করলেও শুরুতে পরিবারের দিক থেকে নিরঙ্কুশ সমর্থন ছিল না। শৈশবে নাচের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পড়াশোনার চাপে শেখা হয়ে ওঠেনি। মিডিয়াতে কাজ করা নিয়ে মা-বাবার প্রাথমিক দ্বিধা কাটাতে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। মা-বাবার উদ্দেশে তখন সাদিয়া আয়মান বলেছিলেন, ‘প্লিজ তোমরা আমার মনোবল ভেঙে দিয়ো না, বিশ্বাস রাখো। আমি এমন কিছু করব না যাতে তোমাদের কোনো লজ্জা হয় বা তোমরা অপমানিত হও…তোমরা প্রাউড ফিল করবে এমন কিছুই হবে।’

কাজের মানকেই গুরুত্ব দিই-

সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘যখন দেখলাম নাটকে একই চরিত্র বারবার পাচ্ছি, তখন নিজেকে ওখান থেকে সরিয়ে এনেছি। সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করি। কোনো গল্প এলেই কেন আমি এটা করব, আগে নিজেকে প্রশ্ন করি। নিজের থেকে ভালো বিচারক তো আর নেই। যখন মনে হয়, কাজটা করা উচিত, তখনই করি। না হলে যত বড় কাজই হোক, সম্মান রেখেই না করে দিই।’

সিনেমা বুঝে করা উচিত-

সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয় সিনেমাটা একটু বুঝে করা উচিত। সময় নিচ্ছি। অনেক গল্প এসেছে, মিটিং হয়েছে, হচ্ছে। সব ঠিকঠাক হলেই সিনেমাটা করতে চাই। সিনেমা নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চাই না।’

ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক চরিত্র করে পরিচিতি পান সাদিয়া আয়মান। কিন্তু গত কয়েক বছর ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইছেন। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’ দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক। এরপর তাঁকে তানিম নূরের ‘উৎসব’ সিনেমায় দেখা গেছে। দুই ছবিতেই তাঁর অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে। এরপর বেশ কটি সিনেমার প্রস্তাব এসেছে। তবে তাড়াহুড়া করতে চান না তিনি।

অমিতাভ রেজার ওয়েব ফিকশন ‘লাভ সিটার’ এ কাজ করেছেন সাদিয়া আয়মান। একটি পোষা বিড়ালকে কেন্দ্র করে রোমান্টিক ঘরানার সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে। অমিতাভ রেজার সঙ্গে যৌথভাবে সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন মুশফিকা মাসুদ। এ ছাড়া ‘মায়াশালিক’, ‘স্বপ্নভূক’ থেকে ‘বিভাবরী’, প্রায় সাত বছরের ক্যারিয়ারে সাদিয়া আয়মানকে বেশ কয়েকটি ওয়েব সিনেমায় দেখা গেছে।

সব সময় নিজেকে কুইন মনে করি-

সাদিয়া বলেন, ‘আমি নিজের কাছে কুইন। সব সময়ই নিজেকে কুইন মনে করি। আর শুধু আমি না, প্রতিটি মেয়েই নিজেদের কুইন ভাবতে পছন্দ করে। আমি সেলফ ডিপেন্ডেন্ট একজন নারী। অভিনয়ই আমার পেশা। নিজের আয় দিয়ে নিজের খরচ নিজেই চালাই, চলাফেরা, শপিং, ঘোরা-সব করি নিজের মতো করে। তাই আমি নিজেকে কুইন বলি। আমার মনে হয় প্রতিটি মেয়েই সমাজে স্বাধীনভাবে নিজেদের দেখতে চায়।’ ব্যক্তিজীবনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা আছে বলেই নিজেকে ‘রানি’ বলে ভাবতে ভালোবাসেন তিনি। কাজ, আত্মবিশ্বাস আর ব্যক্তিগত অর্জন, সব মিলিয়ে সাদিয়া নিজেকে তুলে ধরতে চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights