সংকটে ক্যানসার চিকিৎসা
সক্ষমতার তুলনায় চাপ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় নতুন রোগীদের রেডিওথেরাপির সিরিয়াল দেওয়া বন্ধ রেখেছে রাজধানীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। ফলে চিকিৎসার আশায় এসে শরীরে ক্যানসারের জীবাণু নিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। হাসপাতালে নার্সদের ব্যবহার নিয়েও অভিযোগ করেছেন রোগীর স্বজনরা। হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, এখানে রেডিওথেরাপির জন্য রয়েছে ছয়টি মেশিন। এর মধ্যে চারটিই দুই বছরের বেশি বিকল। অন্যদিকে সচল দুটি মেশিনে তিন শিফটে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ রোগীকে রেডিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। তবু প্রতিদিন যোগ হচ্ছে নতুন রোগী। আর বাড়ছে অপেক্ষমাণ তালিকা। বর্তমানে রেডিওথেরাপির জন্য অপেক্ষমাণ রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে কোনো কোনো রোগীর সিরিয়াল পড়েছে ২০২৮ সালের শেষভাগে। একদিকে ক্যানসারের মতো জটিল রোগের সঙ্গে লড়াই, অন্যদিকে চিকিৎসার জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা। ঠিকমতো রেডিওথেরাপি দিতে না পেরে দ্বিতীয়বারের মতো আরও মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। রেডিওথেরাপির এই দীর্ঘ সিরিয়াল শুধু একটি সংখ্যার হিসাব নয়, এর পেছনে রয়েছে একজন রোগীর চিকিৎসার অপেক্ষা, আর একটি পরিবারের অনিশ্চয়তা।
ক্যানসারের চিকিৎসায় সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রেডিওথেরাপির প্রয়োজন থাকা রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হলে চিকিৎসা পরিকল্পনায়ও এর প্রভাব পড়তে পারে। দেরিতে সিরিয়াল পাওয়া রোগীরা নির্ধারিত সময়ে রেডিওথেরাপি নিয়ে কাক্সিক্ষত সুফল পাবেন না। হাসপাতালের পরিচালক জানালেন, নতুন করে সিরিয়াল দেওয়া হলেও তাতে তেমন লাভ হবে না। কারণ নতুন রোগীদেরও প্রায় দুই বছর পর থেরাপির সুযোগ মিলবে।
জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘হাসপাতালে দুটি রেডিওথেরাপি মেশিন অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত চালু রেখে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। তার পরেও বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার রোগী রেডিওথেরাপির অপেক্ষায় রয়েছে। অতিরিক্ত সময় মেশিন চালু রাখলেও ছয় সপ্তাহে ২৫০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া সম্ভব। ছয় সপ্তাহ পর আবার ২৫০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হবে। এভাবে চলতে থাকলে অপেক্ষমাণ ৮ হাজার রোগী কবে নাগাদ সিরিয়াল পাবে সেখানেই সংকটের জায়গা। রোগীর তুলনায় মেশিনের সংখ্যা কম থাকায় সংকট তৈরি হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এত দিন ক্যানসার চিকিৎসাকে চরম অবহেলা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এ সংকট সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতালে নতুন একটি মেশিন কেনা হয়েছে। আরেকটি কেনা হবে। এ ছাড়া সরকার ঢাকাসহ সারা দেশে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায় নতুন রেডিওথেরাপি মেশিন সক্ষমতা বাড়েনি। ফলে রেডিওথেরাপির সিরিয়াল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
