সমীক্ষাতে আটকে ৫ মেগা প্রকল্প

নজরুল মৃধা, রংপুর

রংপুরে রেলওয়ের উন্নয়নে পাঁচটি মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রকল্পগুলো আলোর মুখ দেখেনি। সমীক্ষাতেই প্রকল্প পাঁচটির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে রংপুরের মানুষ রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধাক্কা খেয়েছে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে (১) কাউনিয়া থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর পর্যন্ত রেলপথ মিটার গেজ থেকে ডুয়েল গেজে রূপান্তর, (২) সান্তাহার থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত রেলপথ উন্নয়ন, (৩) তিস্তা রেল সেতুর পাশে আরেকটি সেতু নির্মাণ, (৪) কাউনিয়া থেকে বুড়িমারী ও কুড়িগ্রাম রুটের আধুনিকায়নে ভারতের সঙ্গে রেল ট্রানজিট এবং স্থলবন্দরের সুবিধা পুরোপুরি ব্যবহারের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রেলপথকে ব্রডগেজ বা ডুয়েল গেজে রূপান্তর ও (৫) রংপুরের সঙ্গে আশপাশের জেলাগুলোর রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে বাইপাস রেলপথ নির্মাণ।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কাউনিয়া থেকে পার্বতীপুর পর্যন্ত রেলপথ ডুয়েল গেজে রূপান্তর প্রকল্পে ৫৭ কিমি মেইন লাইন স্থাপন করার কথা। সাতটি স্টেশন বিল্ডিং, গার্ডার ব্রিজ ১৪টি ও বক্স কালভার্ট ৩৩, চারটি প্ল্যাটফর্ম শেড নির্মাণের কথা। এ ছাড়া ছয়টি কম্পিউটার বেজড সিগন্যালিং সিস্টেম করার পরিকল্পনাও ছিল। সে সময় রেলপথটিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ১ হাজার ৩৭৬ কোটি ২৪ লাখ এবং সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৩১৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা ছিল। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তবে এ প্রকল্পের শেষ তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত কাজই শুরু করতে পারেনি রেল কর্তৃপক্ষ। ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ার পরে ওই বছরের ১০ মার্চ পরামর্শক নিয়োগের জন্য নোটিস প্রকাশ করা হয়। ২৬ জুলাই সেটা উন্মুক্ত করা হয়। মূল্যায়নের পর এটি একই বছরের ১৯ আগস্ট বাতিলের সুপারিশ করা হয়। প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগের বিভিন্ন পর্যায়ে ভারতীয় এক্সিম ব্যাংকের সম্মতি গ্রহণে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই কারণে ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরুর আগেই শেষ হয়েছে। কাউনিয়া-পার্বতিপুর ডুয়েলগেজ রেললাইনে রূপান্তরিত হলে একই সঙ্গে মিটারগেজ ও ডুয়েলগেজ ট্রেন চলাচল করতে পারবে। এতে একদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে অন্যদিকে অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের আওতায় তিস্তা রেলসেতু দিয়ে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চলাচল করে। এই অবস্থায় পুরাতন তিস্তা রেল সেতুর পাশে নতুন একটি রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও সমীক্ষাতে মৃত্য হয়েছে। বিগত সরকারের আমলে মেয়াদোত্তীর্ণ তিস্তা রেলসেতু পাশেই আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ করার ঘোষণা এসেছিল। আরেকটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল রেল বিভাগ। একটি উচ্চপর্যায়ের টিম সেতুর সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্র্শন করেছিল। তারা সেতু পরিদর্শন শেষে সমীক্ষাও করে গেছেন। কিন্তু সেই সমীক্ষা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। এদিকে সান্তাহার থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত রেলপথটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মিটারগেজ রেললাইন। এই রুটের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪২ দশমিক ৫১ কিলোমিটার। এই রেল পথ উন্নয়নের জন্য সমীক্ষা করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সেটিও আলোর মুখ দেখেনি। এ ছাড়া রংপুরের সঙ্গে চারপাশের জেলাগুলোর রেল যোগাযোগ আরও সহজ ও সময়সাশ্রয়ী করার লক্ষ্যে বাইপাস রেলপথের সমীক্ষা করা হলেও তা ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে। রেলের লালমনিরহাট বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং সেতু প্রকৌশলী (অ.দা.) নাজিব কায়সার বলেন, সবকিছু সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তিস্তা রেলসেতু, কাউনিয়া থেকে পার্বতীপুর, সান্তাহার থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত রেলপথ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আপাতত বাস্তবায়নের কোনো সম্ভাবনা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights