সাইরেন বাজলেই দৌড়: মাটির নিচে বন্দিদশায় কাটছে ইসরায়েলিদের সময়

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন সরাসরি পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। ইরানে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলেও তৈরি হয়েছে আতঙ্কের পরিবেশ। তেল আবিব, জেরুজালেম, হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে বহু মানুষ এখন মাটির নিচের বাংকার, গ্যারেজ, পাতাল রেলস্টেশন বা আন্ডারগ্রাউন্ড আশ্রয়ে সময় কাটাচ্ছেন।

অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজ একটি প্রামাণ্যচিত্রে তেল আবিবের এমন বাস্তবতা তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যায়, একটি হাসপাতালের ভূউপরি অংশের পাশাপাশি মাটির নিচেও দুই তলা স্থাপনা রয়েছে। ওই আন্ডারগ্রাউন্ড ফ্লোরে ২৫০ জন রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক ব্রিয়ান ফ্রেডম্যান জানান, ইরানের হামলা শুরু হওয়ার পরপরই ২৫০ রোগীকে মাটির নিচের এই ফ্লোরে সরিয়ে নেওয়া হয়। তার ভাষায়, বিভিন্ন স্থানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এই স্থাপনাটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিরাপদ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, গত বছরের জুনে ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখনও বহু মানুষ বাধ্য হয়ে বাংকারে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আবার সেই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

নাইন নিউজের ভিডিওতে দেখা যায়, তেল আবিবের বিভিন্ন ভবনের নিচে আন্ডারগ্রাউন্ডে অনেক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে সেখানে অবস্থান করছেন। কেউ বসে বই পড়ছেন, আবার কেউ বিছানা পেতে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

তেল আবিবে আশ্রয় নেওয়া খসরো নেমাতি নামের একজন বলেন, তিনি ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তার আশা, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়ে যাবে।

যুদ্ধ শুরুর দিন তেল আবিবে হামলা শুরু হলে অনেকেই স্থানীয় সিনাগগ, বাড়ির আন্ডারগ্রাউন্ড গ্যারেজ, পাতাল রেলস্টেশনে আশ্রয় নেন। অ্যালেনবি স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ইসরায়েল হায়ওম জানান, তিনি যে ভবনে থাকেন সেখানে আশ্রয় নেওয়ার ব্যবস্থা নেই। তাই বাধ্য হয়ে রেলস্টেশনে আশ্রয় নিতে হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত একটি ভিডিওতেও তেল আবিবের পরিস্থিতি দেখা যায়। সেখানে শহরের কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অনেক ভবনের কাচ ভেঙে রাস্তার পাশে ছড়িয়ে আছে। সেগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।

এক পাতাল রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়া আনা নেসতেরোভা বলেন, তিনি যে ভবনে থাকেন সেখানে মাটির নিচে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে একা থাকায় ভয় লাগছিল। তাই অন্যদের সঙ্গে থাকার জন্য তিনি রেলস্টেশনে চলে এসেছেন।

এই স্টেশনে আনা নেসতেরোভার সঙ্গে তার একটি কুকুরও আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে অনেক মানুষকে বেঞ্চে বসে বা শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

স্টেশনে থাকা লুসেট নামের আরেকজন বলেন, হামলার কারণে তাকে পুরো রাত সেখানেই থাকতে হচ্ছে।

তেল আবিবের বাসিন্দা সাকেজ জিভি পিবিএস নিউজকে জানান, হামলায় তাদের বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায়ই সাইরেন বাজছে। এক সন্তানের মা জিভি বলেন, দিনের বেলায় তিনি খোলা আকাশের নিচে থাকেন। তবে সাইরেন বাজলেই আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে চলে যেতে হয়। তার দেড় বছরের মেয়েও এখন বুঝতে পারে কখন বাংকারে যেতে হবে।

সূত্রঃ নাইন নিউজ, টাইমস অব ইসরায়েল, রয়টার্স, পিবিএস নিউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights