সোনারগাঁয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৫
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিজয় দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে উপজেলা চত্বরে ও বাইরে বিএনপির দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পণ্ড হয়ে গেছে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় মেলা।
সোমবার সকাল ১১টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মান্নান সমর্থক যুবদলের কর্মী রনি নামের একজনের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জানা যায়, সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান ও তার সমর্থকরা সকালে উপজেলার উদ্ধবগঞ্জ বাজারের শহিদুল্লাহ প্লাজায় জড়ো হন। মান্নান ও মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিজয় মিছিল নিয়ে তারা উপজেলা চত্বরে প্রবেশ করেন। এসময় সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সাবেক মন্ত্রী ও সংস্কারপন্থী হিসেবে খ্যাত রেজাউল করিমের সমর্থকদের মিছিল আসলে ধাক্কাধাক্কির একপর্যায়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এসময় সংঘর্ষের একপর্যায়ে উপজেলা থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান সমর্থক মোবারক হোসেন (৫৩), রনি হাসান মোল্লা, মামুন মোল্লা, রিফাত মোল্লা এবং রেজাউল করিম সমর্থক নুরে ইয়াসিন নোবেল, আনোয়ার হোসেনসহ দুই গ্রুপের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর বারী পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এই সংঘর্ষের কারণে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় মেলা বাতিল করতে বাধ্য হয় আয়োজকরা। উপজেলা চত্বরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
আহত যুবদল নেতা মামুন মোল্লা জানান, থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতৃত্বে বিজয় দিবস উপলক্ষে নেতাকর্মীদের নিয়ে উপজেলায় মিছিল নিয়ে আসলে উপজেলা চত্বরে থাকা রেজাউল করিমের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান করে। এসময় আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
আহত ছাত্রদল নেতা রিফাত মোল্লা জানান, মান্নান সাহেবের পক্ষে মিছিল নিয়ে আসলে আগে থেকে অবস্থান করা রেজাউল করিমের সমর্থকরা আমাদের উপর হামলা চালায়। তখন আমাকে তুলে নিয়ে আটকে রেখে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার পুরো শরীরে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
আহত নুরে ইয়াসিন নোবেল ও আনোয়ার জানান, রেজাউল করিমের নির্দেশনায় বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে উপজেলা চত্বরে অবস্থানের সময় মান্নান পন্থীরা আমাদের নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমিসহ অনেকেই আহত হয়।
সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, রেজাউল করিমের লোকজন শহীদ মিনারে ফুল দিতে এসে উস্কানিমূলক আচরণের একপর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীদের উপর উত্তেজিত হয়ে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালিয়ে লোকজনকে আহত করে। এঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল বারী জানান,শান্তিপূর্ণ বিজয় দিবস উদযাপনের পর উপজেলা চত্বরের বাহিরে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা ঘটে। এটা কোনো রাজনৈতিক সংঘর্ষ নয়, দুই পক্ষই অভিযোগ দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা রহমান জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বরে কোন ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। যে ঘটনা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এবিষয়ে কোন পক্ষই অভিযোগ দেননি।
