সৌদিতে ‘মাফিয়া চক্রের’ হাতে জিম্মি ভাই, নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
সৌদি আরবে বড় ভাইকে আটকে রেখে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন ছোট ভাই। মঙ্গলবার বরিশাল মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন বরিশালের মুলাদী উপজেলার পাতারচর এলাকার বাসিন্দা মো. বাদশা হাওলাদার।
ট্রাইব্যুনালের বিচারক সোহেল আহমেদ মামলাটি এজাহার হিসেবে রুজু করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার ধলা ৯ নম্বর বালিপাড়া এলাকার মো. শহিদ (৫৫), তার ছেলে বজলু (৩৫), গফরগাঁও উপজেলার কাজা কুমারবাড়ি এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে ও সৌদি প্রবাসী ইব্রাহিম (৪২) এবং গফরগাঁও এলাকার আব্দুল আজিজ সাদেক।
মামলার বরাতে বেঞ্চ সহকারী তুহিন মোল্লা জানান, বাদীর বড় ভাই খোকন হাওলাদার ঢাকার গুলশান-১ এলাকার আনোয়ার সুইটসে চাকরি করতেন। সেখানে আসামি ইব্রাহিমের সঙ্গে তার পরিচয় ও সুসম্পর্ক হয়। একপর্যায়ে ইব্রাহিম সৌদি আরবে যাওয়ার পর খোকনকে পাঁচ লাখ টাকার চুক্তিতে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন।
চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের পর ২০২৪ সালের জুনে সৌদি আরবে যান খোকন। তবে সেখানে যাওয়ার পর তাকে কোনো চাকরি না দিয়ে একটি ফ্ল্যাটে আটকে রাখা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে সৌদি আরবের একটি ‘মাফিয়া চক্রের’ কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন বাদী।
মামলায় আরও বলা হয়, ওই চক্রের অজ্ঞাত সদস্যরা খোকন হাওলাদারকে মারধর করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রধান আসামি শহিদ বাদীর বাড়িতে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে খোকনকে আর ফেরত পাওয়া যাবে না বলে হুমকি দিয়ে চলে যান তিনি।
বাদীর অভিযোগ, বর্তমানে তার বড় ভাই খোকন হাওলাদার সৌদি আরবে ওই চক্রের কাছে জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন।
