স্পেনকে হারিয়ে অঘটনের জন্ম দিতে চায় বেলজিয়াম
অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামছে বেলজিয়াম। দুই দলের সামনে রয়েছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ। এই ম্যাচে জয়ের মধ্যে দিয়ে আবারও সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়ার লক্ষ্য রোমেলু লুকাকুদের।অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো শেষ চারে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে স্পেন।
ছন্দ এবং গতিময় ফুটবল খেলার কারণে লামিন ইয়ামালরা এগিয়ে থাকলেও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নদের চমকে দেওয়ার মতো আক্রমণাত্মক দক্ষতা ও বিশ্বাস রয়েছে বলে জানালেন বেলজিয়ামের কোচ রুডি গার্সিয়া।
এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই এসেছিল স্পেন। শুরুতে কিছুটা ধীরগতির সূচনা হলেও, শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়ে তারা নিজেদের ছন্দ ফিরে পায়।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে গার্সিয়া পরিসংখ্যান ও দল পরিচালনার কৌশলের ওপরই বেশি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা জানি যে আমরা অন্যতম ফেভারিট একটি দলের বিপক্ষে খেলছি। বল দখলে স্পেন সম্ভবত সেরা এবং গত ১৫-২০ বছর ধরে তারা একটি সুনির্দিষ্ট ও পরিচিত শৈলীতে খেলে আসছে।
তবে আমাদেরও একটি দুর্দান্ত দল আছে। বিশ্বকাপে আমরা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল করা দল এবং আমরা এমন এক দলের মুখোমুখি হচ্ছি যাদের ‘এক্সপেক্টেড গোল’(সম্ভাব্য গোল)-এর হার সবচেয়ে বেশি। আমরা বিশ্বাস করি আমরা এটা করতে পারব।
ফ্রান্স (১৬টি গোল) ও আর্জেন্টিনার (১৪টি গোল) পরেই ১৩টি গোল নিয়ে বেলজিয়াম টুর্নামেন্টে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা দল। অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রোমেলু লুকাকু যার খেলার সময় বা ধকল টুর্নামেন্টজুড়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। তিনি জানান, পরবর্তী ধাপে যেতে হলে বেলজিয়ামকে নিখুঁত ফুটবল খেলতে হবে।
৩৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় বলেন, এতদূর আসার পর কেউ তো আর শুধু বাড়ি ফেরার জন্য খেলে না। স্পেন একটি চমৎকার দল। তারা ‘থার্ড ম্যান’ বা তৃতীয় খেলোয়াড়কে খুঁজে নিয়ে খেলার চেষ্টা করে, তাদের উইং বা প্রান্তগুলোতে গতি আছে এবং তারা আক্রমণে গভীরতা তৈরি করে। তবে আমরাও ভালোভাবে প্রস্তুত এবং আমাদের এমন কিছু অস্ত্র বা দক্ষতা আছে যা তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
লুকাকু জানান, এপ্রিল মাসে গার্সিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরই তার ভূমিকা বা দায়িত্ব ঠিক করা হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যই তার কাছে মুখ্য।
তিনি বলেন, সবকিছুই দলের জন্য। আমি মাঠের ভেতরে ও বাইরে উভয় জায়গাতেই সাহায্য করার চেষ্টা করি। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে আপনাকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে খেলতে হয়।
শেষ ষোলোর লড়াইয়ে সিয়াটলে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ ব্যবধানে হারানোর পর, লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে সম্ভাব্য বৈরী দর্শকদের মুখোমুখি হওয়ার জন্যও বেলজিয়াম প্রস্তুত। গার্সিয়া বলেন, কেবল প্রতিকূল পরিবেশ দিয়ে তার খেলোয়াড়দের মনোবল ভাঙা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আমরা এই তো সেদিন এমন এক স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রকে হারালাম যেখানে সবাই আমাদের বিপক্ষে ছিল। দর্শক তো আর গোল করে না। আমরা নিজেদের করণীয় বিষয়ের ওপরই মনোযোগ দেব। স্পেনের মতো চমৎকার একটি ফুটবল দলের বিপক্ষে খেলার চ্যালেঞ্জটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট বড়। আমরা হয়তো কিছুটা পিছিয়ে থাকা দল, তবুও তাদের কড়া টক্কর দেওয়ার জন্য আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব।
