স্পেন থেকে ফেরার পরদিনই মাঠে মেসি, হার এড়াতে পারলেন না মায়ামির
অনলাইন ডেস্ক
স্পেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেই মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু রাজকীয় সম্মাননা পাওয়ার আনন্দ ধরে রাখা গেল না মাঠের লড়াইয়ে। নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরে গেল ইন্টার মায়ামি। বিরতির পর বদলি হিসেবে মাঠে নেমেও দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা।
স্পেনের ওভিয়েদো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। সঙ্গে ছিল বিশ্ব ফুটবলে তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার’। কিন্তু সেই অর্জনের রেশ কাটতে না কাটতেই মাঠে নেমে হতাশ হতে হলো আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী তারকাকে। নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে ইন্টার মায়ামির হারে ম্লান হয়ে গেল তার ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দ।
স্পেনের রাজপরিবারের দেওয়া এই সম্মাননা গ্রহণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মায়ামির হয়ে মাঠে নামেন মেসি। তবে ভ্রমণ ও ব্যস্ত সূচির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাকে শুরু থেকেই খেলাননি দলের কোচ। বিরতির পর মাঠে নামলেও ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেননি মায়ামি অধিনায়ক।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য পিছিয়ে পড়েছিল মায়ামি। প্রথমার্ধের সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরোর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় নিউইয়র্ক রেড বুলস। সেই ধাক্কা সামলে সমতায় ফেরার চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি মায়ামি।
দ্বিতীয়ার্ধে মেসিকে মাঠে নামিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে মায়ামি। ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে রিকুয়েলমে ফিলিপির বদলি হিসেবে মাঠে প্রবেশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার উপস্থিতিতে গোল শোধের আশায় আক্রমণ চালায় দলটি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা মেলেনি। উল্টো যোগ করা সময়ে এমিল ফোর্সবার্গের গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিউইয়র্ক রেড বুলস। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় মায়ামিকে।
এই হারে মায়ামির সাম্প্রতিক দাপুটে পারফরম্যান্সেও ছেদ পড়ল। চলতি মাসে টানা তিন ম্যাচ জিতে প্রতিপক্ষের জালে নয় গোল করেছিল দলটি। রেড বুলসের বিপক্ষে সেই আক্রমণাত্মক ছন্দের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। পুরো ম্যাচে গোল করতে না পারার হতাশা নিয়েই ফিরতে হয়েছে মেসিদের।
অথচ নিউইয়র্ক রেড বুলসের বিপক্ষে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ছিল মায়ামির পক্ষে। আগের চারবারের মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনটি জয় ও একটি ড্র পেয়েছিল তারা। ওই চার ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ১৭ গোলও করেছিল দলটি। এবার সেই আধিপত্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হলো মায়ামি।
দল হারলেও ব্যক্তিগত গোল ও গোলে সহায়তার পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে রয়েছেন মেসি। চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা ২৫, যা তাকে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রেখেছে। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে ১৫টি গোল করিয়ে যৌথভাবে সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারীর অবস্থানেও রয়েছেন তিনি।
