স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভব

স্ট্রোক শুধু তাৎক্ষণিক একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়, এর প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। এতে আক্রান্ত ব্যক্তির কর্মক্ষমতা ও স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী পঙ্গুত্ব দেখা দিতে পারে। তাই স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

গত শনিবার হোটেল হলিডে ইন-এ এক গোলটেবিল বৈঠকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডের সহযোগিতায় গোলটেবিল বৈঠকটির আয়োজন করে পপুলার স্ট্রোক অ্যান্ড নিউরোকেয়ার সেন্টার।

স্ট্রোক চিকিৎসায় প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ
-অধ্যাপক ডা. ইফতেখার ইবনে মান্নান

স্ট্রোকের চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হলে মস্তিষ্কের ক্ষতি বাড়তে পারে। তাই হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দ্রুত রোগ নির্ণয়, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে স্ট্রোক প্রতিরোধ সম্ভবচিকিৎসাসেবা চালু রাখার পাশাপাশি দ্রুত পুনর্বাসন শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ।

পপুলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বলেন, স্ট্রোকের রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় কোথায় যাবেন, তা বুঝতে পারেন না। পরিচিত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা তাঁর চেম্বার খুঁজতে গিয়ে সময় নষ্ট হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা শুরু করতে যেন দেরি না হয়, তা নিশ্চিত করা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করার ব্যবস্থা না থাকা, টেকনিশিয়ান ও সিরিয়ালের সমস্যা কিংবা পরীক্ষার প্রতিবেদন পেতে দেরি হওয়ার কারণে চিকিৎসা বিলম্বিত হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সহজলভ্য রাখতে হবে। স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী বন্ধ রক্তনালি খুলে দেওয়া, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্ত অপসারণ এবং মস্তিষ্কের ভেতরের চাপ কমানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। গুরুতর রোগীদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা এবং পরবর্তী পুনর্বাসনসেবাও জরুরি।

পেশায় প্লাস্টিক সার্জন পরিচয় দিয়ে হাসপাতালটির পরিচালক বলেন, দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকলে স্ট্রোকের রোগীদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা হতে পারে। নিয়মিত পাশ পরিবর্তন, সঠিক নার্সিং পরিচর্যা ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এসব জটিলতা কমানো সম্ভব।

স্ট্রোক প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটিই সম্ভব
-অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক চৌধুরী

২০১৭ সালের জাতীয় সমীক্ষার তথ্য মতে, বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ১১.৩৯ জনের মধ্যে স্ট্রোকের প্রাদুর্ভাব পাওয়া গেছে। এ হিসাবে দেশে প্রায় ১৯ লাখ মানুষ স্ট্রোকে আক্রান্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের মোট স্ট্রোক রোগীর ১০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরের নিচে।

২০২৬ সালে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি চারজনের একজন স্ট্রোকের ঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমানে দেশে পঙ্গুত্বের প্রধান কারণ স্ট্রোক এবং মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণও এটি। স্ট্রোকের লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করতে ‘বিই ফাস্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। ‘বি’ বা ব্যালান্সের ক্ষেত্রে হঠাৎ হাঁটাচলা বা চলাফেরায় ভারসাম্য হারানো কিংবা মাথা ঘোরা, ‘ই’ বা আইজের ক্ষেত্রে হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টিশক্তিতে সমস্যা, ‘এফ’ বা ফেসের ক্ষেত্রে মুখের এক পাশ বেঁকে যাওয়া, ‘এ’ বা আর্মের ক্ষেত্রে এক পাশের হাত বা পা দুর্বল কিংবা অবশ হয়ে যাওয়া এবং ‘এস’ বা স্পিচের ক্ষেত্রে কথা জড়িয়ে যাওয়া বা স্পষ্টভাবে কথা বলতে না পারা—এগুলো স্ট্রোকের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। ‘টি’ বা টাইমের অর্থ এসব লক্ষণ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। স্ট্রোক প্রতিরোধ ও চিকিৎসা দুটিই সম্ভব। নিয়মিত হাঁটাচলা ও শারীরিক পরিশ্রম, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ফাস্টফুড ও পোড়া তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলা। রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানো। এর মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো যায়। স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে ৯০ শতাংশ স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব।

রোগীর পুনর্বাসন শুধু ফিজিওথেরাপি নয়
-অধ্যাপক ডা. এম এম জামান

স্ট্রোকের রোগীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুনর্বাসন শুরু করা যায়। তবে এ ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাস, নাড়ির গতি ও রক্তচাপ স্থিতিশীল এবং স্ট্রোকের সক্রিয় প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়া জরুরি। তা না হলে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হতে পারে। পুনর্বাসন শুধু ফিজিওথেরাপি নয়। এর মধ্যে অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, পুনর্বাসন নার্সিং এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মানসিক ও সামাজিক সহায়তা রয়েছে। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে হাত-পায়ের নড়াচড়া, পেশির শক্তি ও কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি কথা বলা ও খাবার গিলতে সমস্যা কমাতে সহায়তা করে। অকুপেশনাল থেরাপির মাধ্যমে খাওয়া, পোশাক পরা ও দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা বাড়ানো হয়। দ্রুত পুনর্বাসন শুরু করলে রক্ত জমাট বাঁধা, নিউমোনিয়া, পেশি দুর্বল এবং অস্থিসন্ধি শক্ত হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা কমানো সম্ভব। পুনর্বাসন দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। রোগীর উন্নতি অনুযায়ী থেরাপির পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হয়। পপুলার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও ভর্তি রোগীদের পুনর্বাসনসেবা দেওয়া হয়। চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফিজিওথেরাপিস্ট, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট ও সংশ্লিষ্ট দলের সদস্যরা চিকিৎসা পরিকল্পনা করেন। নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে বাড়িতে গিয়েও পুনর্বাসনসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

সারা দেশে স্ট্রোকের ওষুধ সহজলভ্য হওয়া জরুরি
-মো. শামসুল আরিফীন মজুমদার

স্ট্রোকের রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসা শুরু করতে যেন কোনো বিলম্ব না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। তবে হাসপাতালে আসার আগেই রোগীর কিছু সময় নষ্ট হতে পারে। হাসপাতালের দায়িত্ব হলো রোগী পৌঁছানোর পর চিকিৎসক দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শুরুর প্রতিটি ধাপে সময়ক্ষেপণ কমানো। স্ট্রোক শনাক্ত করতে সিটি স্ক্যান বা এমআরআইয়ের প্রয়োজন হলে দ্রুত পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে মেশিন, টেকনিশিয়ান, সিরিয়াল কিংবা প্রতিবেদন পেতে দেরি হয়। এসব কারণে রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হলে চিকিৎসা শুরু করতেও বিলম্ব হয়। স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী বন্ধ রক্তনালি খুলে দেওয়া, রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, মস্তিষ্কে জমে থাকা রক্ত অপসারণ এবং মস্তিষ্কের ভেতরে চাপ কমানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি গুরুতর রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা ও দ্রুত পুনর্বাসন প্রয়োজন। স্ট্রোকের পর দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘা হতে পারে। নিয়মিত পাশ পরিবর্তন, যথাযথ নার্সিং পরিচর্যা এবং ফিজিওথেরাপি শুরু করলে এসব জটিলতা কমানো সম্ভব। পপুলার স্ট্রোক অ্যান্ড নিউরোকেয়ার সেন্টারে এসব সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একটি কার্যকর স্ট্রোক কেয়ার ইউনিটের জন্য স্ট্রোক শনাক্ত করতে সক্ষম চিকিৎসক, দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যা ও পুনর্বাসনসেবা—এই চারটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আক্রান্তের ৮৫ শতাংশই ইস্কেমিক স্ট্রোক
-অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুল ইসলাম

স্ট্রোক মূলত মস্তিষ্কের রক্তনালির একটি জটিল রোগ, যা ‘ব্রেন অ্যাটাক’ নামেও পরিচিত। মস্তিষ্কের রক্তনালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রায় ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ইস্কেমিক স্ট্রোক হয়। আর রক্তনালি ফেটে গিয়ে বাকি ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে হেমোরেজিক

স্ট্রোক হয়ে থাকে। হঠাৎ কথা জড়িয়ে যাওয়া, মুখ বেঁকে যাওয়া বা শরীরের এক পাশ অবশ হয়ে আসা স্ট্রোকের লক্ষণ। এসব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না হলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে স্থায়ী পঙ্গু বা মৃত্যুও হতে পারে। আধুনিক চিকিৎসায় বড় ধরনের অস্ত্রোপচার বা মাথার হাড় না কেটেও মস্তিষ্কের রক্তনালির বিভিন্ন চিকিৎসা করা সম্ভব।

রোগীকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোক সেন্টারে চিকিৎসা জরুরি
-ডা. রুহুল কুদ্দুস

স্ট্রোকের লক্ষণ প্রকাশের সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো রক্তনালির বাধা দূর করা না গেলে মস্তিষ্কের লাখ লাখ স্নায়ুকোষ নষ্ট হয়ে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বা মৃত্যু ঘটতে পারে। আক্রান্তের সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে রোগীকে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ স্ট্রোক সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসা দিতে হবে এবং পাশাপাশি পরবর্তী চিকিৎসা ও পরিচর্যায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর খাবার ও পানি গিলতে সমস্যা হয়। হাত-পা অবশ হয়ে পায়ের গভীর শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে। খাবার বা লালা শ্বাসনালিতে প্রবেশ করে ফুসফুসে সংক্রমণ বা নিউমোনিয়া হতে পারে।

স্ট্রোক জটিলতায় নিবিড় পরিচর্যা জরুরি
-ডা. উজ্জ্বল কুমার মল্লিক

স্ট্রোকের রোগীদের অন্যতম জটিলতা অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়া। মুখের লালা, থুতু বা খাবার শ্বাসনালি দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়। এতে রোগী শ্বাসনালি বন্ধ, খিঁচুনি ও মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বেড়ে যায়। আবার হাসপাতালে ভর্তির পর জটিলতা দেখা যায়। এসব কারণে স্ট্রোকের পর রোগীর নিবিড় পরিচর্যা জরুরি বা আইসিইউর প্রয়োজন পড়ে। আইসিইউতে শ্বাসনালি সুরক্ষিত রাখা, শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, খিঁচুনি সামলানো এবং রোগীর স্নায়বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। জটিলতা নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্রোপচারের পরবর্তী পরিচর্যা এবং আধুনিক চিকিৎসায় আইসিইউ বেশ কার্যকর।

সচেতনতায় কাজ করে যাবে কালের কণ্ঠ
-মেহেদী হাসান তালুকদার

পাঠককে সঠিক তথ্য দিয়ে সচেতন করা সংবাদপত্রের অন্যতম দায়িত্ব। স্ট্রোকের লক্ষণ, প্রতিরোধের উপায় এবং কোথায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা পাওয়া যায়, তা নিয়মিত সংবাদপত্রে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দৈনিক কালের কণ্ঠ শুধু বিশ্ব স্ট্রোক দিবসেই নয়, বছরজুড়েই নিবন্ধ, সাক্ষাৎকার, সচেতনতামূলক ফিচার ও প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে পাঠকদের স্বাস্থ্যসচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটাচলা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণসহ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে পাঠকদের উৎসাহিত করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও স্বাস্থ্য সচেতনতার এসব কাজ অব্যাহত থাকবে।

অনুলিখন : আবদুল্লাহ আল মিরাজ ও আসাদুজ্জামান রিপন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights