হঠাতই ব্রিটিশ বিমানটি ২৮০০০ ফুট নিচে নেমে যায়, জরুরি অবস্থা জারি করেন পাইলট
অনলাইন ডেস্ক
লন্ডন থেকে শিকাগোগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে আকস্মিক প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিমানে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত সোমবার নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বেলা ১২টা ১৪ মিনিটে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের বিএ২৯৫ ফ্লাইটটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়।
আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রার শুরুতেই উড়োজাহাজটি ৩৭ হাজার ফুট উঁচুতে উঠে তার স্বাভাবিক ক্রুজিং অলটিটিউড অর্জন করেছিল। তবে উড্ডয়নের মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় আয়ারল্যান্ডের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই বিমানটিতে যান্ত্রিক বিভ্রাট দেখা দেয় এবং দ্রুত উচ্চতা হ্রাস পেতে শুরু করে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে জানা যায়, জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে বিমানটির সিলিং থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অক্সিজেনের মাস্কগুলো নিচে নেমে আসে। পাইলটরা মুহূর্তের মধ্যেই উড়োজাহাজটিকে ৩৭ হাজার ফুট থেকে ২৮ হাজার ফুট নিচে নামিয়ে আনেন এবং বিমানটিকে ১০ হাজার ফুটের নিচে পরিচালনা করতে থাকেন। আন্তর্জাতিক এভিয়েশন বিধি অনুযায়ী যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত বিশেষ ‘৭৭০০ স্কোয়াক কোড’ সক্রিয় করে বিমানটি আয়ারল্যান্ডের আকাশ থেকেই ইংল্যান্ডের দিকে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ট্র্যাকিং সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, নিরাপদে অবতরণের জন্য বিমানে জ্বালানির পরিমাণ ও ওজন কমাতে পাইলটরা পেমব্রোকশায়ার ও উত্তর ডেভনের মধ্যবর্তী ব্রিস্টল চ্যানেলের ওপর বেশ কিছুক্ষণ বিমানটিকে ঘুরিয়ে জ্বালানি পোড়াতে থাকেন। প্রয়োজনীয় ওজন কমানোর পর অবশেষে বিকেল ৫টার কিছু পর বিমানটি পুনরায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করতে সক্ষম হয়।
বিমানের যাত্রী টম নিকোলস সেই মুহূর্তের আতঙ্কজনক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে জানান, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ঠিক আগেই উড়োজাহাজটি আচমকা প্রবল ঝাঁকুনির মুখে পড়ে। তবে এত দ্রুত ৯ হাজার ফুট উচ্চতায় নেমে আসলেও সেটিকে খুব বেশি অস্বস্তিকর মনে হয়নি এবং পাইলটরা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আকস্মিকভাবে অক্সিজেনের মাস্কগুলো নেমে আসার পর যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। তার সামনের আসনে থাকা এক দম্পতি নিজেদের অক্সিজেন মাস্ক নাগাল না পেয়ে বিকল্প আসনের দিকে ছোটেন, তবে এর মধ্যেই বিমানের ক্যাপ্টেন ঘোষণা দেন যে বিমানটি ১০ হাজার ফুটের নিচে নেমে এসেছে এবং এই উচ্চতায় অক্সিজেনের আর কোনো প্রয়োজন নেই।
ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একজন মুখপাত্র ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তাই তাদের কাছে সর্বদা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। অত্যন্ত প্রশিক্ষিত পাইলটরা একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি শনাক্ত করার পরই নিরাপদে বিমানটিকে হিথ্রোতে ফিরিয়ে আনেন। বিমানে থাকা সব যাত্রী স্বাভাবিকভাবেই নেমে এসেছেন এবং তাদের দ্রুত বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে বিমান সংস্থার কর্মীরা কাজ করছেন।
বিএ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জরুরি অবস্থার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো না হলেও সাধারণত ক্যাবিন প্রেসার বা বায়ুর চাপ হঠাৎ কমে গেলে এই ধরণের দ্রুত উচ্চতা হ্রাস ও ৭৭০০ জরুরি কোড ব্যবহার করা হয়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
